বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও বাড়েনি দাম, দেশে মজুত দুমাসের জ্বালানি তেল

পশ্চিম এশিয়ায় চরম উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়া সত্ত্বেও ভারতে জ্বালানির সংকট হবে না বলে আশ্বস্ত করেছে কেন্দ্র। পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, দেশে আগামী দু’মাসের জন্য পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেল মজুত রয়েছে। বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়ালেও ভারতে ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি, বরং ২০২৪ সালের মার্চে দাম ২ টাকা কমানো হয়েছে। রিফাইনারিগুলো বর্তমানে পূর্ণ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং কোনও পাম্পেই তেলের অভাব নেই।
সরকার জানিয়েছে, আমদানিকৃত এলপিজি-র দাম ৫২২ ডলার থেকে বেড়ে ৭৮০ ডলারে পৌঁছালেও সাধারণ মানুষের জন্য রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত এক দিনে দেশে প্রায় ৬০ লক্ষ সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। তেল বিপণন সংস্থাগুলো (OMCs) লোকসানের সম্মুখীন হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য ৩০,০০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। এছাড়া অভ্যন্তরীণ জোগান নিশ্চিত করতে এটিএফ (ATF) ও ডিজেল রপ্তানির ওপর বিশেষ কর বা লেভি বসানো হয়েছে।
বাজারে কৃত্রিম সংকট ও কালোবাজারি রুখতে কেন্দ্র কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যগুলোর সহযোগিতায় দেশজুড়ে প্রায় ২,৮০০টি অভিযান চালিয়ে অবৈধ সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ও সিএনজি-র ১০০ শতাংশ জোগান নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন সংযোগ দেওয়ার কাজও দ্রুত গতিতে চলছে। পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাতের আবহে দেশবাসীকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল বা গ্যাস সংগ্রহ না করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেন্দ্র স্পষ্ট করেছে যে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বর্তমানে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।
