বিহারের সীমান্ত কি বদলে যাচ্ছে? অমিত শাহের ঝটিকা সফরে কড়া নজরে অনুপ্রবেশ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের তিন দিনের বিহার সফরকে কেন্দ্র করে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। নেপাল ও বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বিহারের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘সীমাঞ্চল’ এখন দিল্লির রাডারে। মূলত অনুপ্রবেশের অভিযোগ এবং সীমান্ত এলাকায় জনতাত্ত্বিক কাঠামোর পরিবর্তন নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠক করতেই শাহের এই সফর।
শাহের নজরে ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ ও নিরাপত্তা বেষ্টনী
বিহারের কিষাণগঞ্জ ও সংলগ্ন সাতটি সীমান্তবর্তী জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের নিয়ে ম্যারাথন বৈঠক করবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এই বৈঠকে এসএসবি (SSB), ইডি (ED), এবং আইবি (IB)-র শীর্ষ আধিকারিকরাও উপস্থিত থাকছেন। সূত্রের খবর, সীমান্তে গজিয়ে ওঠা অবৈধ ধর্মীয় কাঠামো এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তার বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করতে পারেন তিনি। এছাড়া লেট্টি ও ইন্দরওয়া সীমান্ত চৌকির উদ্বোধন এবং ল্যান্ড পোর্ট অথরিটির কাজের অগ্রগতিও খতিয়ে দেখবেন তিনি।
জেডিইউ নেতার বিস্ফোরক দাবি
অমিত শাহের এই সফর নিয়ে মুখ খুলেছেন জেডিইউ (JDU) নেতা অশোক চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, নেপাল সীমান্ত খোলা হওয়ার সুযোগ নিয়ে মাদক পাচার ও জাল নোটের কারবার বাড়ছে। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ থেকে আসা অনুপ্রবেশকারীদের কারণে সীমাঞ্চলের জনতাত্ত্বিক চেহারা বদলে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “কিষাণগঞ্জের ভোটার লিস্ট ও আধার কার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখলেই আসল ফারাকটা ধরা পড়বে।”
সজাগ কেন্দ্রীয় এজেন্সি
সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং অনুপ্রবেশের ফলে তৈরি হওয়া নিরাপত্তার ঝুঁকি নিয়ে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলো আগে থেকেই সতর্ক ছিল। অমিত শাহের এই ব্যক্তিগত তদারকি সেই তৎপরতাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী তিন দিন সীমান্ত ব্যবস্থাপনার খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখে বড় কোনো কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ আসতে পারে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

