ভারতীয় পোল্ট্রি শিল্পে বড় ধাক্কা, ৪০ দেশে মুরগির মাংস ও ডিম রফতানি নিষিদ্ধ করল সৌদি আরব – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক : ভারতীয় পোল্ট্রি শিল্পের জন্য সৌদি আরব থেকে এল এক অত্যন্ত দুশ্চিন্তার খবর। জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তার স্বার্থে ভারতসহ বিশ্বের মোট ৪০টি দেশ থেকে কাঁচা মুরগির মাংস এবং ডিম আমদানির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা (Full Ban) জারি করেছে সৌদি আরবের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অথরিটি (SFDA)। তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বজুড়ে পোল্ট্রি বাজারে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
কেন এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা
সৌদি আরবের এই পদক্ষেপের প্রধান কারণ হলো বিশ্বজুড়ে বার্ড ফ্লু (Avian Influenza – H5N1) এবং নিউক্যাসল ডিজিজের (Newcastle Disease) দ্রুত বিস্তার। ভাইরাসের এই ঝুঁকি মোকাবিলায় কড়া সতর্কতা অবলম্বন করছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এসএফডিএ (SFDA) আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য রিপোর্টগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাদের নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কোন কোন দেশের ওপর কোপ পড়ল
সৌদি আরব আমদানির নিয়মাবলীকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করেছে:
- সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা (৪০টি দেশ): ভারতের পাশাপাশি এই তালিকায় রয়েছে চীন, ব্রিটেন, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভিয়েতনাম, ইরান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং নেপাল। এই দেশগুলো থেকে কোনো ধরনের কাঁচা পোল্ট্রি পণ্য আর সৌদি আরবে ঢুকতে পারবে না।
- আংশিক নিষেধাজ্ঞা (১৬টি দেশ): আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ইতালি এবং কানাডার মতো ১৬টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, এই দেশগুলোর শুধুমাত্র সেই সব শহর বা রাজ্য থেকে আমদানি বন্ধ করা হয়েছে যেখানে বার্ড ফ্লুর সংক্রমণ সক্রিয় রয়েছে।
রফতানিকারকদের জন্য সামান্য স্বস্তি
কাঁচা ও টাটকা পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ‘হিট-ট্রেটেড’ (Heat-Treated) বা উচ্চ তাপমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত করা পণ্যের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যে সব পোল্ট্রি পণ্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় প্রসেস করা হয়েছে (যাতে ভাইরাস নষ্ট হয়ে যায়), সেগুলোর রফতানি চলতে পারে। তবে এর জন্য রফতানিকারক দেশকে একটি সরকারি স্বাস্থ্য শংসাপত্র জমা দিতে হবে, যা পণ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
ভারতীয় বাজারে এর প্রভাব
ভারতীয় ডিম ও মুরগির মাংসের জন্য সৌদি আরব ছিল অন্যতম প্রধান বিদেশি বাজার। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ভারতীয় রফতানিকারকদের আয়ে সরাসরি টান পড়বে।
- দেশীয় বাজার: রফতানি বন্ধ হওয়ার ফলে দেশের ভেতরে মুরগি ও ডিমের সরবরাহ বেড়ে যেতে পারে, যার ফলে স্থানীয় বাজারে এগুলোর দাম কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
- বিকল্প বাজার: ভারতীয় রফতানিকারকদের এখন ওমান, কাতার বা আফ্রিকার দেশগুলোর মতো নতুন আন্তর্জাতিক বাজারের দিকে নজর দিতে হবে।
সৌদি আরব সময়ে সময়ে এই তালিকা পর্যালোচনা করে থাকে। ভারত যদি ভবিষ্যতে নিজেকে ‘বার্ড ফ্লু মুক্ত’ দেশ হিসেবে প্রমাণ করতে সফল হয়, তবেই এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

