ভারত ও আফগানিস্তানে বিমান হামলার হুমকি পাকিস্তানের, বাড়ছে উত্তেজনা
পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় অস্থিরতা তৈরির ছক কষছে পাকিস্তান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ সরাসরি ভারত ও আফগানিস্তানের রাজধানী লক্ষ্য করে বিমান হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নয়াদিল্লি ও কাবুল যোগসাজশ করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ‘ছায়াযুদ্ধ’ চালাচ্ছে। এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তীব্র হয়েছে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, অভ্যন্তরীণ আর্থিক সংকট ও আন্তর্জাতিক চাপ থেকে মুক্তি পেতে পাকিস্তান এই কৌশল গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে ওয়াশিংটনের সুনজরে আসা এবং তালিবান-ইরান অক্ষকে চাপে রাখাই ইসলামাবাদের মূল লক্ষ্য। তবে গত বছর ভারতীয় ফৌজের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর ক্ষয়ক্ষতি এবং আফগান সীমান্তে তালিবানি প্রতিরোধের মুখে পড়ে পাকিস্তান বর্তমানে যথেষ্ট রক্ষণাত্মক অবস্থানে রয়েছে।
বিপজ্জনক এই রণকৌশল সফল করা পাকিস্তানের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ। একদিকে গাজায় সেনা মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে ভারত ও আফগানিস্তানের সঙ্গে দ্বিমুখী যুদ্ধে জড়ানো ইসলামাবাদের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। বর্তমানে নয়াদিল্লির ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গুরুত্ব ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে পাক আকাশসীমা লঙ্ঘনের হুমকি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা। সামগ্রিকভাবে, ইসলামাবাদের এই প্ররোচনা উপমহাসাগরীয় স্থিতিশীলতাকে গভীর সংকটে ফেলেছে।

