ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের মেগা পরিকল্পনা, অনুপ্রবেশ রুখতে এবার পাহারায় থাকবে সাপ ও কুমির

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের মেগা পরিকল্পনা, অনুপ্রবেশ রুখতে এবার পাহারায় থাকবে সাপ ও কুমির

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে এক নজিরবিহীন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সীমান্ত সুরক্ষা বাহিনী (বিএসএফ)। ডিরেক্টর জেনারেল প্রবীণ কুমারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রস্তাবটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সীমান্তের ৪,০৯৬ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে যে সমস্ত স্থানে ভৌগোলিক প্রতিকূলতার কারণে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া সম্ভব নয়, সেখানে সাপ ও কুমির মোতায়েনের সম্ভাবনা যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ। মূলত অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে এই ‘সরীসৃপ কৌশল’ একটি নতুন প্রতিরক্ষা স্তর হিসেবে কাজ করবে।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী, নদী তীরবর্তী এবং জলাভূমি এলাকাগুলোতে সরীসৃপ ব্যবহারের সম্ভাব্যতা খতিয়ে দেখার জন্য পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব সেক্টরের আধিকারিকদের বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিএসএফ ড্রোন, থার্মাল ইমেজার এবং এআই-সক্ষম ক্যামেরার মতো আধুনিক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করলেও সুন্দরবনের মতো দুর্গম নদীপথ ও জলাভূমিতে প্রাকৃতিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কথা ভাবা হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ নদীপথগুলোতে অবৈধ যাতায়াত সম্পূর্ণ বন্ধ করাই মূল লক্ষ্য।

ইতিমধ্যেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কিছু অংশে, বিশেষ করে সুন্দরবনের মতো এলাকায় প্রাকৃতিকভাবেই কুমিরের উপস্থিতি রয়েছে। তবে সেগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে সীমান্ত নিরাপত্তা কৌশলের অংশ করার প্রস্তাব এই প্রথম। বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং বোল্ড-কিউআইটি (BOLD-QIT) প্রকল্পের মতো সেন্সরভিত্তিক নজরদারি থাকলেও, প্রতিকূল ভূখণ্ডে সরীসৃপ মোতায়েন ভারতের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এক অনন্য ও কৌশলী পদক্ষেপ হতে চলেছে।

যদিও এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সাপ ও কুমির সংগ্রহ এবং তা পরিচালনার দায়িত্ব কারা পালন করবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। এর পাশাপাশি সীমান্ত সংলগ্ন যেসব ‘ডার্ক জোন’ বা মোবাইল নেটওয়ার্কহীন এলাকা রয়েছে, সেখানেও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বহুমুখী পরিকল্পনা সফল হলে তা কেবল ভারতের সীমান্ত সুরক্ষাকেই শক্তিশালী করবে না, বরং সীমান্ত অপরাধ দমনেও এক কঠোর বার্তা দেবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *