ভোটের আগে বড় জয় মমতার, ৫ দিন পর কেন ধরনা তুললেন মুখ্যমন্ত্রী? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
টানা পাঁচ দিনের টানাপোড়েন শেষে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলের ধরনা মঞ্চ ছাড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকায় ‘বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার বিরোধিতায় সরব হয়ে রাজপথে আন্দোলনে নেমেছিলেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় Supreme \titleonly কোর্টের পর্যবেক্ষণের পর এই জয়কে ‘গণতন্ত্রের জয়’ বলে অভিহিত করে ধরনা প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী।
এদিন ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভোটার তালিকা থেকে বৈধ নাম বাদ দেওয়ার যে চক্রান্ত চলছিল, তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে বড় সাফল্য এসেছে। Supreme \titleonly কোর্ট কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিদের নিয়ে বিশেষ অ্যাপিলেট ট্রাইব্যুনাল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তারা এই ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। শীর্ষ আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েই মুখ্যমন্ত্রী রাজপথের আন্দোলন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
ধরনা তোলার পর সমাজমাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “যদি দণ্ড সহিতে হয় তবু মিথ্যাবাক্য নয়। জয় জয় সত্যের জয়।” তিনি সরাসরি বিজেপি শাসিত কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধে অভিযোগ করেন, ‘এসআইআর’-এর মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত হচ্ছিল। তাঁর কথায়, “বাংলার একজন বৈধ ভোটারের নামও যাতে বাদ না পড়ে, তার জন্য প্রয়োজনে নির্বাচনের আগের দিন পর্যন্ত নাম তোলা হবে।”
পোস্টে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নাম না করে ‘ভ্যানিশ কুমার’ সম্বোধন করে তিনি দাবি করেন, জোরপূর্বক ভোটাধিকার হরণের যে চক্রান্ত চলছিল, তা বাংলার জনগণ রুখে দিয়েছে। দলীয় কর্মীদের প্রতি তাঁর নির্দেশ, নির্বাচনের কাজ চলার পাশাপাশি জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষকে ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সাহায্য করতে হবে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, এই জয় কেবল তৃণমূল কংগ্রেসের নয়, বরং সমস্ত বঙ্গবাসীর সাংবিধানিক অধিকারের জয়। “বাংলা লড়াই করতে জানে,” এই হুঙ্কার দিয়েই নিজের পোস্ট শেষ করেন তিনি। আপাতত রাজপথের লড়াই আইনি ও প্রশাসনিক স্তরে নিয়ে যাওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন তৃণমূল নেত্রী।

