মগরাহাট পূর্বের রাজনৈতিক সমীকরণে কি এবার বড় কোনো ওলটপালট হতে চলেছে – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক
বাংলার বিধানসভা নির্বাচন দোরগোড়ায়। আর এই আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রকে ঘিরে দানা বাঁধছে নতুন কৌতূহল। একদা বামেদের অভেদ্য দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রটি গত তিনটি নির্বাচনে ঘাসফুল শিবিরের পকেটে থাকলেও, ২০২৬ সালের লড়াইয়ে কি সমীকরণ বদলাতে পারে? চায়ের আড্ডায় এখন এটাই লাখ টাকার প্রশ্ন। একদিকে বুথস্তরের সংগঠনকে পাথরের মতো শক্ত করতে মরিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, অন্যদিকে ক্ষমতা দখলের আত্মবিশ্বাসে ফুটছে বিজেপি। তবে মাঠের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবে, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
মগরাহাট পূর্ব মূলত তফসিলি জাতি সংরক্ষিত একটি কেন্দ্র। জয়নগর লোকসভার অন্তর্গত এই বিধানসভা এলাকাটি মগরাহাট ২ ব্লক এবং ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েত নিয়ে গঠিত। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ১৯৫১ সালে এই কেন্দ্রটির যাত্রা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে এখানে সিপিএমের একাধিপত্য ছিল। ১৯৭৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা সাতবার এই আসনটি দখলে রেখেছিল বামেরা। তবে পরিবর্তনের হাওয়ায় ২০১১ সালে নমিত্ত সাহার হাত ধরে এখানে ঘাসফুল ফোটে। তারপর থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ সালের নির্বাচনেও তৃণমূলের দাপট অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী নমিতা সাহা ১ লক্ষ ১০ হাজার ৯৪৫ ভোট পেয়ে বিজেপি প্রার্থী চন্দন কুমার নস্করকে ৫৪ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।
কিন্তু এবারের প্রেক্ষাপট কিছুটা ভিন্ন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও এই অঞ্চল থেকে প্রতিমা মণ্ডলের লিড বজায় ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ার পর মগরাহাট পূর্ব কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। নতুন খসড়া তালিকা অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা এক ধাক্কায় ১৪ হাজার ১২৯ জন কমে গিয়েছে। ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে এখানে ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৩৭ হাজার ৮০৮ জন, যা ২০২৪ সালে ছিল ২ লক্ষ ৫১ হাজার ৯৩৭ জন। ভোটার সংখ্যার এই হ্রাস-বৃদ্ধি কি নির্বাচনী ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে? রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, এই নতুন ভোটার তালিকা এবং বুথস্তরের সাংগঠনিক রদবদল আসন্ন নির্বাচনে গেম চেঞ্জার হতে পারে।
বিজেপি শিবিরের দাবি, গ্রামীণ স্তরে তাদের জনপ্রিয়তা আগের চেয়ে বেড়েছে এবং মানুষ এবার নিঃশব্দ বিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি তাদের উন্নয়নমূলক কাজ এবং সুসংগঠিত বুথ কমিটি বিরোধীদের মাথা তুলে দাঁড়াতে দেবে না। মগরাহাট পূর্বের গ্রামীণ মেজাজে এখন শুধুই ভোটের অঙ্ক। সিপিএম কি তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে কিছুটা কামড় দিতে পারবে, নাকি লড়াই হবে সরাসরি দিদি বনাম মোদী বাহিনীর? ভোটার সংখ্যার এই পরিবর্তনের রেশ ইভিএম বক্সে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

