মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি: তেল-গ্যাস ছাড়িয়ে ভারতের একাধিক শিল্পখাতে সংকটের আশঙ্কা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে ভারতের অর্থনীতিতে গভীর সংকটের কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই অস্থিরতা কেবল জ্বালানি তেলের দামবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সোনা, হিরে, সার এবং প্লাস্টিক শিল্পের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট অ-জ্বালানি আমদানির প্রায় ১০ শতাংশ আসে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো থেকে, যা সরবরাহ শৃঙ্খলকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ভারতের হিরে আমদানির ৪৭.৫ শতাংশ এবং সারের ৬৩ শতাংশই নির্ভর করে এই অঞ্চলের ওপর। বিশেষ করে নাইট্রোজেন-ভিত্তিক সারের জোগান ব্যাহত হলে কৃষি খাতে উৎপাদন খরচ বাড়বে এবং সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির বোঝা বইতে হবে। এছাড়া পলিমার ও হাইড্রোকার্বনের প্রায় অর্ধেক অংশ ওই অঞ্চল থেকে আসায় প্লাস্টিক ও রাসায়নিক শিল্পে কাঁচামালের তীব্র সংকট দেখা দেওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
আমদানি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভারতের রফতানি বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আনা মূল্যবান ধাতু ও হিরে প্রক্রিয়াজাত করে ভারত যে রফতানি আয় করে, তা বাধাগ্রস্ত হবে। যদিও বিমান শিল্পের যন্ত্রাংশ বা সারের জন্য জার্মানি, ফ্রান্স বা রাশিয়ার মতো বিকল্প বাজারের কথা ভাবা হচ্ছে, তবে সেই সক্ষমতা তৈরি হতে দীর্ঘ সময় লাগবে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের সামগ্রিক শিল্প ও বাণিজ্য ব্যবস্থা বড়সড় ধাক্কার সম্মুখীন হতে পারে।

