মধ্যপ্রাচ্যে ভয়াবহ যুদ্ধ, হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় বিধ্বস্ত ইরান। তেহরানের প্রধান শহরগুলোতে আছড়ে পড়ছে একের পর এক মিসাইল। পাল্টা হিসেবে দুবাই ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে ইরানও। যুদ্ধের এই ভয়াবহ আবহে বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা।
তেলের দামে ১৯ শতাংশ লাফ
ইরান ও মার্কিন সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) দামে। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে তেলের দাম ১৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই আকাশছোঁয়া দাম সাধারণ মানুষের পকেটে বড় টান দেবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কেন বাড়ছে এই সংকট
- হরমুজ প্রণালী বন্ধ: নিরাপত্তার খাতিরে ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে তেল সরবরাহ থমকে গেছে।
- তেলবাহী জাহাজে হামলা: অভিযোগ উঠেছে, আমেরিকার হামলায় ইরানের ৯টি তেলবাহী জাহাজ ধ্বংস হয়েছে।
- খামেনেইর মৃত্যু ও পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি: ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই নিহিত হওয়ার খবরের পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরমে। ইরান সাফ জানিয়েছে, যুদ্ধ তারা শুরু না করলেও শেষ তারাই করবে।
বিশ্ব রাজনীতিতে বিভাজন
এই যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ব এখন দুই ভাগে বিভক্ত। একদিকে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো, অন্যদিকে রাশিয়া ও চীন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার অবস্থানও এখন সংকটের মুখে।
সৌদি আরব, ওমান, কাতার ও দুবাইয়ের মতো তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন ইরানি মিসাইলের নিশানায়। বিশ্ববাজারের ১২ শতাংশ তেল সরবরাহকারী ইরানের এই পরিস্থিতি আগামী দিনে জ্বালানি সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

