মন্দির ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব, এআই যুগে তরুণ প্রজন্মের নতুন ঝোঁক – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ভারতে মন্দির অর্থনীতি ও ধর্মীয় পর্যটনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে ‘টেম্পল ম্যানেজমেন্ট’ বা মন্দির ব্যবস্থাপনা এখন এক সম্ভাবনাময় পেশা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রভাবে যখন অনেক চিরাচরিত পেশা হুমকির মুখে, তখন পুনে ও মুম্বইসহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিশেষায়িত কোর্সগুলোতে তরুণদের ভিড় বাড়ছে। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা এই কোর্সের মাধ্যমে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, দান ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আধুনিক পাঠ নিচ্ছেন।
বর্তমানে ৬ মাস থেকে ১ বছর মেয়াদি এই কোর্সগুলোতে পাবলিক ট্রাস্ট আইন, ফিন্যান্স এবং মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো শেখানো হচ্ছে। বাধ্যতামূলক ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা মন্দিরের দৈনন্দিন জটিলতা সামলানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। বিশেষত জেন-জি প্রজন্মের কাছে এটি একটি ‘ফিউচার-প্রুফ’ বা নিরাপদ ক্যারিয়ার, কারণ ধর্মীয় আবেগ ও সাংস্কৃতিক সংযোগের এই ক্ষেত্রটি প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা আসাম্ভব।
কাশী বিশ্বনাথ বা তিরুপতির মতো বড় মন্দিরগুলোতে কোটি কোটি ভক্তের সমাগম এই পেশার প্রাসঙ্গিকতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মধ্যপ্রদেশসহ বিভিন্ন রাজ্য সরকারও এখন ধর্মীয় পর্যটনকে শক্তিশালী করতে এই ধরনের পাঠ্যক্রম চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে। জাতি-ধর্ম ও লিঙ্গ নির্বিশেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে যে, আগামী দিনে ভারতের প্রাচীন মন্দিরগুলো কেবল ঐতিহ্যের ধারক নয়, বরং পেশাদার ব্যবস্থাপনার এক আধুনিক কেন্দ্রে পরিণত হতে চলেছে।

