লেটেস্ট নিউজ

মহিলাদের জন্য মোদী সরকারের বিরাট উপহার, এবার বিনামূল্যে মিলবে জরায়ু ক্যানসার প্রতিরোধী মূল্যবান ভ্যাকসিন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

দেশের নারীশক্তির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করল কেন্দ্র সরকার। প্রাণঘাতী জরায়ু মুখ বা সারভিকাল ক্যানসার রুখতে এখন থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা HPV ভ্যাকসিন প্রদান করা হবে। রাজস্থানের আজমির থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিশেষ টিকাকরণ অভিযানের সূচনা করেছেন। ২০২৪ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে এই প্রকল্পের ঘোষণা করা হলেও বর্তমানে তা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

কেন এই ভ্যাকসিন অত্যন্ত জরুরি

পরিসংখ্যান বলছে ভারতে প্রতি বছর প্রায় ৮০,০০০ মহিলা জরায়ু ক্যানসারে আক্রান্ত হন এবং দুর্ভাগ্যবশত তাঁদের মধ্যে ৪২,০০০ জন প্রাণ হারান। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১১৫ জন মহিলা এই মারণ রোগের শিকার হচ্ছেন। মূলত হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের (HPV) সংক্রমণের কারণেই এই ক্যানসার হয়। সঠিক সময়ে টিকাকরণ করা গেলে এই ঝুঁকি প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব।

সাধারণ মানুষের সাশ্রয় ও সরকারি উদ্যোগ

বর্তমানে বেসরকারি হাসপাতালে এই ‘গার্ডাসিল’ (Gardasil) ভ্যাকসিনের কোর্স সম্পন্ন করতে ১০,০০০ টাকারও বেশি খরচ করতে হয় সাধারণ মানুষকে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের পক্ষে যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। নারীদের এই আর্থিক বোঝা থেকে মুক্তি দিতেই সরকার বিনামূল্যে ভ্যাকসিনেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি বছর অন্তত ১ কোটি ১৫ লক্ষ কিশোরীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রক।

কাদের জন্য এই ভ্যাকসিন এবং কোথায় পাবেন

টিকাকরণের নিয়মাবলী অনুযায়ী বয়সের ভিত্তিতে ডোজের সংখ্যা নির্ধারিত করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী টিকা প্রদানের বিন্যাস নিম্নরূপ

  • ৯ থেকে ১৪ বছর বয়সী কিশোরী: এদের জন্য মোট দুটি ডোজ আবশ্যিক।
  • ১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী মহিলা: এদের ক্ষেত্রে পূর্ণ সুরক্ষার জন্য তিনটি ডোজ নিতে হবে।

দেশের যেকোনো প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র (PHC), কমিউনিটি হেলথ সেন্টার, মহকুমা ও জেলা হাসপাতাল এবং সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এই সুবিধা পাওয়া যাবে। ২৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে প্রতিটি টিকাকরণ কেন্দ্রে এই ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা, প্রয়োজনীয় নথি এবং নির্দিষ্ট নিয়মাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। দেশের নারী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ইতিহাসে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে যা ভবিষ্যতে হাজার হাজার প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *