মাওবাদী আন্দোলনের অবসান: নকশালবাড়ির স্ফুলিঙ্গ থেকে অন্ধ্রের আত্মসমর্পণ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ষাটের দশকে দার্জিলিঙের নকশালবাড়ি থেকে শুরু হওয়া সশস্ত্র কৃষক সংগ্রামের দীর্ঘ ছয় দশকের পথচলা থমকে গেল। ফেব্রুয়ারির শেষে অন্ধ্রপ্রদেশে মাওবাদী পার্টির অন্যতম শীর্ষ নেতা টিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে ‘দেবুজি’-র আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলনের চ্যাপ্টার কার্যত বন্ধ হলো। ১৯৬৭ সালে ‘রেডিও পিকিং’-এর যে ঘোষণা ভারতীয় রাজনীতিতে দাবানল সৃষ্টি করেছিল, তার যবনিকা পতন ঘটল নিঃশব্দে।
বাংলার ছাত্র-যুব সমাজ ও কৃষকদের মধ্যে এক সময় এই আন্দোলন ব্যাপক উন্মাদনা সৃষ্টি করেছিল। প্রেসিডেন্সি থেকে যাদবপুর— সর্বত্রই ছড়িয়ে পড়েছিল ‘মুক্তাঞ্চল’ গড়ার স্বপ্ন। তবে তাত্ত্বিক বিচ্যুতি, অন্তর্ঘাত এবং সাধারণ মানুষের থেকে বিচ্ছিন্নতা আন্দোলনকে দুর্বল করে দেয়। পরবর্তীকালে জঙ্গলমহলে কিষেণজির নেতৃত্বে মাওবাদী তৎপরতা পুনর্গঠিত হলেও, ২০১১ সালে তাঁর মৃত্যুর পর সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প ও প্রশাসনিক কৌশলের কাছে তা নতিস্বীকার করে।
বর্তমানে ছত্তীসগঢ় বা অন্ধ্রের মতো দুর্গম এলাকাতেও মাওবাদীরা কোণঠাসা। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রের শক্ত অবস্থান এবং প্রান্তিক মানুষের ন্যূনতম চাহিদা পূরণ হওয়ায় সশস্ত্র বিপ্লবের প্রাসঙ্গিকতা ফুরিয়েছে। একদা যে আদর্শ বাঙালি জীবন ও সংস্কৃতিকে গভীরভাবে আলোড়িত করেছিল, আজ তা ইতিহাসের পাতায় কেবল একটি বিষণ্ণ স্মৃতি হিসেবেই টিকে রইল।

