মাওবাদী শীর্ষ নেতা দেবুজির আত্মসমর্পণ, এক কোটি টাকার মাথার দাম ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের অবসান
সিপিআই (মাওবাদী) সংগঠনের সেন্ট্রাল মিলিটারি কমিশনের প্রধান থিপ্পিরি তিরুপতি ওরফে দেবুজি তেলঙ্গানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। মাদিগা দলিত সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা এই নেতার মাথার দাম ছিল এক কোটি টাকা। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র আন্দোলনে যুক্ত দেবুজি ২৫০ জন জওয়ান হত্যা এবং এক হাজারেরও বেশি অস্ত্র লুটের ঘটনায় অভিযুক্ত ছিলেন। তাঁর এই আত্মসমর্পণকে মাওবাদী আন্দোলনের ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য অনেক বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
১৯৮২ সালে র্যাডিক্যাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন থেকে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে দেবুজির যাত্রা শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মাওবাদী দলে যোগ দেওয়ার পর তিনি দ্রুত পদোন্নতি পেয়ে ২০০১ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন। মাওবাদীদের শক্তিশালী গেরিলা বাহিনী বা পিএলজিএ-র জনক হিসেবে পরিচিত দেবুজি মূলত ছত্তীসগঢ়, মহারাষ্ট্র ও ওড়িশায় একাধিক বড় নাশকতার মাস্টারমাইন্ড ছিলেন। ২০১৯ সালে তাঁকে সংগঠনের সামরিক শাখার সর্বোচ্চ পদে বসানো হয়েছিল।
কেন্দ্রীয় সরকারের মাওবাদী মুক্ত ভারত গড়ার লক্ষ্য এবং সংগঠনের অভ্যন্তরে মতবিরোধের জেরে গত কয়েক বছরে মাওবাদী কাঠামোর ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ে। পলিটব্যুরো সদস্য সোনুসহ একাধিক শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণের পর দেবুজির এই সিদ্ধান্ত সংগঠনটিকে চরম নেতৃত্ব সংকটে ফেলেছে। ছাত্র রাজনীতি থেকে গেরিলা বাহিনীর প্রধান হয়ে ওঠার এই দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী অধ্যায়ের সমাপ্তি ভারতের অতিবামপন্থী সশস্ত্র আন্দোলনের শক্তিক্ষয়ের এক স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।

