মাদক পাচারের অভিনব কৌশল, গোয়েন্দা জালে ধরা পড়ল চক্র
ইদানীং মাদক পাচারের জন্য অপরাধীরা নিত্যনতুন ও বিস্ময়কর সব পদ্ধতি অবলম্বন করছে। সম্প্রতি বিমানবন্দরে বেবিফুডের ক্যানে হেরোইন তৈরির কাঁচামালসহ চার তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। গোয়েন্দাদের ধারণা, স্থলপথে কড়াকড়ি বাড়ায় পাচারকারীরা এখন আকাশপথ ব্যবহার করে মণিপুর থেকে মালদায় এসব সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছে। এছাড়া আসামের এক ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে কুমড়োর ভেতরে লুকানো প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার ব্রাউন সুগার উদ্ধার করা হয়েছে, যা দেখে দুঁদে কর্মকর্তারাও হতবাক হয়ে গেছেন।
বিহারের ভারত-নেপাল সীমান্তে এক বাইক আরোহীকে আটকের পর পাচারের আরও একটি সূক্ষ্ম কারিগরি প্রকাশ্যে আসে। বাইকের তেলের ট্যাঙ্ক এবং ইঞ্জিনের ভেতরে বিশেষ গোপন কুঠুরি বানিয়ে সেখানে বিপুল পরিমাণ চরস লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশি তল্লাশিতে প্রাথমিকভাবে কেবল চটের বস্তায় মাদক মিললেও, নিবিড় পরীক্ষায় যানের অভ্যন্তরীণ কাঠামোতে লুকানো মাদকের সন্ধান পাওয়া যায়। পাচারকারীরা মূলত পুলিশের চোখ ফাঁকি দিতেই যানের মূল যন্ত্রাংশে এমন পরিবর্তন ঘটিয়েছিল।
বছরের শুরুতে ইন্দোরে একটি মালবাহী ট্রাক থেকে প্রায় ৮৭ কেজি আফিমের কাঁচামাল উদ্ধার করে পুলিশ। ট্রাকের ডিজেল ট্যাঙ্ক ও টুলবক্সের পাশে এমনভাবে কুঠুরি তৈরি করা হয়েছিল, যা বাইরে থেকে বোঝার উপায় ছিল না। ধৃত চালক স্বীকার করেছে যে, জনপ্রিয় সিনেমা ‘পুষ্পা’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তারা এই কৌশল সাজিয়েছিল। রুপালি পর্দার রোমাঞ্চকর দৃশ্য বাস্তবে প্রয়োগ করে মাদক ব্যবসায়ীরা সমাজকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

