লেটেস্ট নিউজ

মুজিবের পর এবার নেহরু কি প্রতিহিংসার নতুন লক্ষ্য, আসামে যা ঘটল তা দেখে শিউরে উঠছে দেশ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক

আসামের কাছাড় জেলার পাইলাপুল এলাকায় ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর একটি বিশাল মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তি ভাঙচুরের যে ছবি বিশ্ববাসী দেখেছিল, ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে নেহরুর মূর্তির ওপর এই আঘাত সেই স্মৃতিকেই যেন উসকে দিচ্ছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার ভোরে, যা নিয়ে বর্তমানে আসামের রাজনীতি উত্তাল।

যেভাবে ঘটল এই তাণ্ডব

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাইলাপুল এলাকায় নেহরু কলেজের সামনে ২০০০ সালে স্থাপিত ১০ ফুট উচ্চতার এই মূর্তিটি মঙ্গলবার সকালে প্রাতঃভ্রমণকারীরা ভাঙা অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং কংগ্রেস কর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ একে সাধারণ দুর্ঘটনা বলে চালানোর চেষ্টা করলেও, সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পর বেরিয়ে আসে আসল সত্য। ফুটেজে দেখা গেছে, গভীর রাতে একটি দল পরিকল্পিতভাবে একটি বিশাল এক্সক্যাভেটর বা জেসিবি মেশিন নিয়ে এসে অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে মূর্তিটি ভেঙে ফেলে। এটি কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করেছেন স্থানীয় কংগ্রেস নেতা প্রদীপ কুমার দে।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও আবেগে আঘাত

এই এলাকাটিতে পণ্ডিত নেহরুর প্রতি সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা দীর্ঘদিনের। ১৯৬৫ সালে এখানে নেহরু কলেজ এবং ১৯৫৩ সালে একটি হাইস্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। দেশের এই মহান নেতার প্রতি সম্মান জানাতেই ২০০০ সালে প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেব এবং প্রাক্তন মন্ত্রী দীনেশ প্রসাদ গোয়ালার উপস্থিতিতে এই মূর্তিটি উন্মোচন করা হয়। ফলে এই ভাঙচুরের ঘটনা কেবল একটি পাথরের মূর্তি ভাঙা নয়, বরং একটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ঐতিহ্যে কুঠারাঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা

ঘটনাটিকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অস্থিরতার সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রাক্তন জেলা কংগ্রেস সভাপতি অভিজিৎ পাল। তিনি স্পষ্ট জানান যে, ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যেভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মূর্তিগুলো ভাঙা হয়েছিল, আসামের এই ঘটনাতেও একই উগ্র মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। পালের মতে, রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ভারতের আধুনিক স্থপতি এবং স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ইতিহাস মুছে ফেলার এই চেষ্টা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।

প্রশাসনের ভূমিকা ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

এই নক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ আধিকারিক শঙ্কর দয়াল জানিয়েছেন যে, একটি মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ভাঙচুরে ব্যবহৃত সেই এক্সক্যাভেটরটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

এদিকে, এই ঘটনায় শাসকদল বিজেপির রহস্যজনক ‘নীরবতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী শিবির। ঘটনাটি পাইলাপুল এলাকার বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য কৌশিক রাই-র নির্বাচনী কেন্দ্রের অন্তর্গত হলেও এখন পর্যন্ত তাঁর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিরোধীদের দাবি, এত বড় একটি অপকর্মের পরও জনপ্রতিনিধিদের চুপ থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ঘটনা কেবল আসাম নয়, বরং সমগ্র ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও ইতিহাস রক্ষার প্রশ্নে এক বড়সড় বিতর্ক তৈরি করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *