যৌন কেলেঙ্কারি ও সরকারি নথি পাচার, স্যান্ড্রিংহাম এস্টেট থেকে গ্রেপ্তার প্রিন্স অ্যান্ড্রু
ব্রিটিশ রাজপরিবারে নজিরবিহীন সংকটের সৃষ্টি করে রাজা তৃতীয় চার্লসের ভাই প্রিন্স অ্যান্ড্রুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটের অস্থায়ী বাসভবন থেকে তাঁকে আটক করা হয়। টেমস ভ্যালি পুলিশের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ষাটের কোঠায় থাকা এক ব্যক্তিকে সরকারি কর্মকাণ্ডে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাকতালীয়ভাবে, ৬৬তম জন্মদিনের সকালেই এই আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়লেন প্রাক্তন এই রাজপুত্র।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন কাণ্ডে অ্যান্ড্রুর নাম জড়িয়ে আসছিল। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত প্রায় ৩০ লক্ষ পাতার নথিতে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, ২০১০ সালে বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় অ্যান্ড্রু সিঙ্গাপুর, হংকং ও ভিয়েতনাম সফরের গোপনীয় বিনিয়োগ প্রতিবেদন এবং সরকারি নথি এপস্টিনের কাছে পাচার করেছিলেন। এছাড়া নাবালিকা পাচার ও যৌন হেনস্তার গুরুতর অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে।
এই গ্রেপ্তারের ঘটনায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কায়ার স্টারমার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন। যদিও প্রিন্স অ্যান্ড্রু বরাবরই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন, তবে ইমেল এবং আলোকচিত্রের মতো প্রমাণাদি তাঁর অবস্থানকে দুর্বল করেছে। রাজকীয় উপাধি হারানো অ্যান্ড্রুর এই গ্রেপ্তার আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলেছে। বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

