রাজ্যের ডাকঘর ও পাসপোর্ট অফিসে বোমার হুমকি দিয়ে রহস্যময় ই-মেল, বড় কোনো নাশকতার ছক কষছে কি অপরাধীরা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কলকাতা সহ গোটা রাজ্যজুড়ে গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় বোমাতঙ্ক ছড়িয়েছে। আদালতের পর এবার টার্গেট করা হয়েছে রাজ্যের পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্র এবং ডাকঘরগুলিকে। বৃহস্পতিবার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করে বিস্ফোরণ ঘটানোর হুমকি দিয়ে আসা একটি ই-মেলকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য তৈরি হয় উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ। শিলিগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার থেকে শুরু করে কলকাতার আনন্দপুর— সর্বত্রই পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটে, যার ফলে চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হন লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষ।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে এই লাগাতার হুমকি মেলের ধারা। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া এই আতঙ্ক বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে পা রাখল। গোয়েন্দারা মনে করছেন, একে কেবল ‘ভুয়ো’ বা নিছক ভয় দেখানোর ঘটনা বলে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর নেপথ্যে কোনো নির্দিষ্ট জঙ্গি গোষ্ঠী বা অপরাধী চক্রের গভীর ষড়যন্ত্র থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না তাঁরা। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যে ই-মেল আইডি থেকে এই বার্তাগুলি পাঠানো হচ্ছে, সেগুলি পুরোপুরি এনক্রিপটেড বা মাস্কড। ফলে আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করে মূল অপরাধীর হদিস পেতে হিমশিম খাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।
বৃহস্পতিবারের ঘটনার সূত্রপাত হয় কলকাতার ইএম বাইপাস সংলগ্ন আনন্দপুরের পাসপোর্ট সেবা কেন্দ্রে। sunniya_dasan@outlook.com নামক একটি আইডি থেকে আসা সেই মেলে দাবি করা হয়, কেবল আনন্দপুর নয়, রাজ্যের প্রতিটি ডাকঘর এবং পাসপোর্ট সেন্টারে ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ঘটানো হবে। এই বার্তা পাওয়ার পরই তড়িঘড়ি পশ্চিমবঙ্গ সার্কেলের চিফ পোস্ট মাস্টার জেনারেলের পক্ষ থেকে সমস্ত দপ্তরে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। নিরাপত্তার খাতিরে দ্রুত কর্মী ও সাধারণ মানুষকে অফিস থেকে বের করে আনা হয়। বম্ব ডিসপোজাল স্কোয়াড এবং স্নিফার ডগ দিয়ে দীর্ঘ তল্লাশি চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
তদন্তে জানা গেছে, এই সমস্যা কেবল পশ্চিমবঙ্গের নয়। কর্ণাটক, ছত্তিশগড়, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডসহ ভারতের অন্তত ১০টি রাজ্যে একই ধরনের হুমকি মেল পাঠানো হয়েছে। কোথাও এলটিটিই আবার কোথাও আইএসআই-এর নাম ব্যবহার করে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। কর্ণাটকের মহীশূর আদালত এবং পশ্চিমবঙ্গের আনন্দপুর— উভয় ক্ষেত্রেই একই ই-মেল আইডি ব্যবহার করা হয়েছে বলে শনাক্ত করেছেন গোয়েন্দারা। সার্ভার বাউন্স করিয়ে পাঠানো এই মেলগুলোর উৎস সন্ধানে এখন মাইক্রোসফটের কারিগরি সাহায্য চাইছে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন।
গোয়েন্দারা বর্তমানে দুটি দিক খতিয়ে দেখছেন। প্রথমত, আদালত বা পাসপোর্ট অফিসের মতো স্পর্শকাতর জায়গাগুলিকে টার্গেট করে কি নিরাপত্তার ফাঁকফোকর পরখ করে দেখছে দুষ্কৃতীরা? দ্বিতীয়ত, পুলিশ ও প্রশাসনকে এই ধরনের ভুয়ো তল্লাশিতে ব্যস্ত রেখে অন্য কোনো বড়সড় নাশকতামূলক কাজ সম্পন্ন করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে না তো? এই রহস্যময় ই-মেল ঝড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল ‘মাস্টারমাইন্ড’ কে, এখন সেটাই খুঁজে বের করাই লালবাজার থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলির প্রধান চ্যালেঞ্জ।

