লেটেস্ট নিউজ

রাতে গ্রামে নির্মাণকাজেও কড়াকড়ি, শান্তির খোঁজে নয়া ‘বিল্ডিং রুলস’ আনছে নবান্ন – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

কলকাতা: শহরতলি ছাপিয়ে এবার বাংলার গ্রামগঞ্জেও মাথা তুলছে আকাশচুম্বী বহুতল। কিন্তু এই নগরায়নের ভিড়ে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের সেই চিরচেনা শান্তি। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে বিরতিহীন নির্মাণকাজের দাপটে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। গ্রামীণ জনজীবনের এই সমস্যা মেটাতে এবার কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাজ্য সরকার। শীঘ্রই আসছে পঞ্চায়েত এলাকার জন্য সুনির্দিষ্ট ‘বিল্ডিং রুলস’।

সূর্যাস্তের পর কাজে লাগবে বিশেষ অনুমতি

পুরসভা এলাকাগুলোতে সূর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত নির্মাণকাজে আগে থেকেই বিধিনিষেধ ছিল। এবার সেই একই নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে পঞ্চায়েত এলাকাতেও। নয়া নিয়ম অনুযায়ী, সন্ধ্যার পর নির্মাণকাজ চালিয়ে যেতে হলে নিতে হবে বিশেষ প্রশাসনিক অনুমতি। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের গাইডলাইন মেনেই এই অনুমতি দেওয়া হবে, যাতে শব্দদূষণের জেরে গ্রামবাসীদের ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটে।

নজরদারিতে নবান্ন ও পঞ্চায়েত দপ্তর

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে পঞ্চায়েত দপ্তর এই নতুন নিয়মের খসড়া তৈরি করেছে। বর্তমানে এটি অর্থদপ্তরের চূড়ান্ত মূল্যায়নের অধীনে রয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই নিয়ম কার্যকর হতে পারে। মূলত দুটি প্রধান কারণে এই সিদ্ধান্ত:

  • পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য: রাতের নিস্তব্ধতায় নির্মাণকাজের যান্ত্রিক শব্দ জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলে। শব্দদূষণ রুখতেই এই লাগাম।
  • বেআইনি নির্মাণ রোধ: অনেক সময় নজর এড়াতে রাতের অন্ধকারে দ্রুত বেআইনি অংশ গেঁথে ফেলা হয়। নতুন নিয়ম চালু হলে অন্ধকারে এমন কারচুপি রোখা সহজ হবে।

বর্তমানে গ্রামীণ এলাকায় সুনির্দিষ্ট কোনো বিল্ডিং রুলস না থাকায় বিক্ষিপ্ত কিছু নিয়মে কাজ চলছিল। নয়া আইন কার্যকর হলে একদিকে যেমন অপরিকল্পিত নগরায়নে রাশ টানা যাবে, অন্যদিকে সুরক্ষিত থাকবে গ্রামের শান্ত পরিবেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *