রেলের সম্পত্তি ও শেয়ার বিক্রি করে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের পথে কেন্দ্র
রাজকোষের ঘাটতি মেটাতে এবং আর্থিক সংস্কারের অংশ হিসেবে রেলের সম্পত্তি ও শেয়ার বিক্রির বড়সড় পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ‘ন্যাশনাল মনিটাইজেশন পাইপলাইন’ (NMP) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রেলের অব্যবহৃত জমি, আবাসন, গুদাম এবং বিভিন্ন সংস্থার শেয়ার ছেড়ে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকা তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। নীতি আয়োগ ইতিমধ্যে এই পরিকল্পনার রূপরেখা তৈরি করেছে এবং রেল ও অর্থ মন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে।
বর্তমানে আইআরএফসি, রেল বিকাশ নিগম এবং রাইটসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেল সংস্থাগুলোতে সরকারের ৮৬ শতাংশ পর্যন্ত অংশীদারিত্ব রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই অংশীদারিত্ব কমিয়ে ৫১ শতাংশে নামিয়ে আনা হতে পারে। এছাড়া রেলের ১৭টি জোনকে তাদের আওতাধীন স্থাবর সম্পত্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার বা লিজ দেওয়ার উপযোগী তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের মূলধন সংগ্রহের পাশাপাশি সরকারি পরিকাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ টানতে চাইছে মোদি সরকার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে অষ্টম পে কমিশনের সম্ভাব্য আর্থিক চাপ। ২০২৬ সাল থেকে নয়া বেতন কাঠামোর সুপারিশ কার্যকর হলে সরকারের ওপর প্রায় সাড়ে চার লক্ষ কোটি টাকার অতিরিক্ত বোঝা চাপতে পারে। সেই বিপুল ব্যয়ভার সামাল দিতেই রেলের শেয়ার ও সম্পত্তি বিক্রির মাধ্যমে রাজকোষ ভরার এই কৌশল নেওয়া হয়েছে। এলআইসি এবং এয়ার ইন্ডিয়ার পর এবার রেলকে কেন্দ্র করেই বিলগ্নীকরণ প্রক্রিয়ায় গতি আনতে চাইছে কেন্দ্র।

