লেটেস্ট নিউজ

শচীনকে ফেরাতে নিতেন ড্রাগ ইনজেকশন! ২৭ বছর পর শোয়েব আখতারের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তিতে তোলপাড় ক্রিকেটবিশ্ব – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

ঘণ্টায় ১৬১.৩ কিলোমিটার গতি। ক্রিকেট ইতিহাসের দ্রুততম সেই ডেলিভারির কথা মনে পড়লে আজও ব্যাটারদের বুকে কাঁপন ধরে। গতির ঝড় তুলে বাইশ গজে ত্রাস সৃষ্টি করা পাকিস্তানের সেই কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতার এবার এক টপ-সিক্রেট ফাঁস করলেন। দীর্ঘ ২৭ বছর পর স্বীকার করে নিলেন যে, ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে তিনি এবং সাকলিন মুস্তাক লুকিয়ে ‘ড্রাগ-ইনজেকশন’ নিতেন।

কেন লুকিয়ে ওষুধ নিতে হতো ‘রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস’কে

১৯৯৮-৯৯ সালের ভারত সফরের সেই হাই-ভোল্টেজ সিরিজের স্মৃতি আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে টাটকা। সেই সফরেই সাকলিন মুস্তাক এবং শোয়েব আখতারের বোলিং দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপ। কিন্তু পর্দার আড়ালে তখন চলছিল অন্য লড়াই। আখতার জানিয়েছেন, কেরিয়ারের শুরু থেকেই তিনি এবং সাকলিন হাঁটুর মারাত্মক সমস্যায় ভুগছিলেন।

আখতারের বয়ান অনুযায়ী, ১৯৯৬ সালেই সাকলিনের হাঁটু কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছিল আর ১৯৯৭ সালে তাঁর নিজের হাঁটুর অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। হাঁটুতে জল জমে ফুলে থাকত সবসময়। এই অসহ্য যন্ত্রণা চেপে রেখে ভারতের বিরুদ্ধে খেলার জন্য তাঁরা ইনজেকশন এবং ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ভয়ে এই বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখতেন তাঁরা। আখতারের দাবি, সিনিয়ররা জানতে পারলে সাকলিনকে দল থেকে ছাঁটাই করা হতো আর তিনি নিজেও ছিলেন দলের সিনিয়রদের অন্যতম প্রধান টার্গেট।

শচীন তেন্ডুলকরকে আউট করার গোপন চ্যালেঞ্জ

সেই ঐতিহাসিক সিরিজে আখতার ও সাকলিনের মধ্যে এক মজার অথচ রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা চলত। লক্ষ্য একটাই— মাস্টার ব্লাস্টার শচীন তেন্ডুলকরের উইকেট। আখতার বলেন, “আমাদের মধ্যে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হতো যে শচীনের উইকেট কে নেবে। সাকলিন এক ম্যাচে শচীনকে আউট করলে পরের ম্যাচে আমি জেদ ধরতাম যে এবার শচীন হবে আমার শিকার।”

নিষিদ্ধ ড্রাগ নাকি স্রেফ পেনকিলার

আখতারের এই ‘ড্রাগ-ইনজেকশন’ শব্দবন্ধটি ব্যবহার করায় স্বাভাবিকভাবেই বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তাঁরা ডোপিং বা নিষিদ্ধ কোনও শক্তিদায়ক ওষুধ নিতেন? যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পেশাদার ক্রিকেটে নিয়মিত ডোপ টেস্ট হওয়ার কারণে নিষিদ্ধ কিছু নেওয়ার সম্ভাবনা কম। সম্ভবত অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে কড়া ডোজের স্টেরয়েড বা ব্যথানাশক ইনজেকশন নিতেন তাঁরা, যা দলের নিয়ম অনুযায়ী হয়তো স্বীকৃত ছিল না। তবুও ২৭ বছর পর মাঠের বাইরের এই গোপন লড়াইয়ের কাহিনী সামনে আসায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে ভারত-পাক দ্বৈরথ নিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *