শিশুর বিছানা ভেজানো কোনো অভ্যাস নয়, বরং একটি চিকিৎসযোগ্য শারীরিক সমস্যা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ঘুমের মধ্যে শিশুর বিছানা ভেজানো বা ‘নকটার্নাল এনুরেসিস’ কোনো আচরণগত ত্রুটি বা আলস্য নয়। চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত ছয় বছর বয়সের পর কোনো শিশু যদি সপ্তাহে দু’বার বা তার বেশি বিছানা ভেজায়, তবে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। এটি অনেক সময় বংশগত কারণে বা রাতে শরীরে অতিরিক্ত প্রস্রাব তৈরি হওয়ার ফলে হতে পারে। তাই একে শিশুর দুষ্টুমি ভেবে বকাবকি করলে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাকে।
এই সমস্যার সঠিক চিকিৎসা না হলে শিশুদের মধ্যে তীব্র লজ্জা, ভয় এবং অপরাধবোধ তৈরি হয়, যা পরবর্তীকালে গভীর মানসিক চাপে রূপ নেয়। বিশেষ করে ১৩ থেকে ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীরা এই সমস্যার কারণে সামাজিক মেলামেশা থেকে নিজেদের গুটিয়ে নেয়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। অভিভাবকরা অনেক সময় বয়ঃসন্ধির অপেক্ষায় চিকিৎসা করাতে দেরি করেন, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একেবারেই ভিত্তিহীন এবং ক্ষতিকর।
বর্তমানে পেডিয়াট্রিক নেফ্রোলজিস্ট বা শিশু-কিডনি বিশেষজ্ঞদের অধীনে এই সমস্যার কার্যকর চিকিৎসা সম্ভব। ব্লাডার ডায়েরি বা ইউরিন টেস্টের মাধ্যমে সমস্যা নির্ণয় করে নির্দিষ্ট ওষুধ ও পদ্ধতির সাহায্যে ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যেই প্রায় ৯০ শতাংশ শিশুকে সুস্থ করে তোলা যায়। তাই শিশুকে দোষারোপ না করে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নিলে তারা একটি স্বাভাবিক ও গ্লানিমুক্ত শৈশব ফিরে পেতে পারে।

