শুভেন্দুর মনোনয়ন ঘিরে ধুন্ধুমার লালবাজারের কোপে কলকাতার দুই ডিসিপি

শুভেন্দুর মনোনয়ন ঘিরে ধুন্ধুমার লালবাজারের কোপে কলকাতার দুই ডিসিপি

ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল হাজরা ও কালীঘাট এলাকা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে সেই হাইভোল্টেজ কর্মসূচিতে নিরাপত্তার গাফিলতি ও অশান্তির জেরে এবার কড়া পদক্ষেপ নিল লালবাজার। কর্তব্যরত দুই ডেপুটি কমিশনার পদমর্যাদার আধিকারিককে শো-কজ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, ডিসি ২ (দক্ষিণ) সিদ্ধার্থ দত্ত এবং ডিসি ২ (রিজার্ভ ফোর্স) মানস রায়ের কাছে এই বিশৃঙ্খলার ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।

বুধবার হাজরা মোড় থেকে শুরু হওয়া বিজেপির মেগা রোড শো কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাড়ার ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযোগ, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা কালো কাপড় বেঁধে সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রবল ধস্তাধস্তি বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। আলিপুর সার্ভে বিল্ডিংয়ের সামনেও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়। কী ভাবে সেখানে এই বিশাল জমায়েত হল এবং পুলিশের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে সদর দপ্তর।

এই ঘটনায় আগেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন। আইপিএস অফিসার হয়েও কেন শহরের আইনশৃঙ্খলা সামলানো সম্ভব হলো না, সেই প্রশ্ন তোলা হয় কমিশনের তরফে। মূলত সরকারি নির্দেশিকা লঙ্ঘন ও বেআইনি জমায়েতের অভিযোগে কালীঘাট ও আলিপুর থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কড়া অবস্থানের পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য প্রশাসন। বিজেপির দাবি, তাদের কর্মসূচির অনুমতি থাকলেও তৃণমূলের জমায়েতের কোনো বৈধ অনুমোদন ছিল না। লালবাজারের এই শো-কজ নোটিশ স্পষ্ট করে দিল যে, নির্বাচনী আবহে কর্তব্যরত আধিকারিকদের কোনো রকম শিথিলতা বরদাস্ত করা হবে না। দুই ডিসিপি-কে এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লালবাজারের কাছে ঘটনার কারণ দর্শাতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *