শুরুটা ‘মুকুল’-এর হাত ধরে, শেষমেশ তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড—কাঁচরাপাড়ার ছেলের সাফল্যের রহস্য কী?
দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ের পর প্রয়াত হলেন প্রবীণ রাজনীতিক মুকুল রায়। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং দলের প্রাক্তন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের প্রয়াণে বাংলার রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক সহযোদ্ধা একসময় দলের দ্বিতীয় প্রধান স্তম্ভ বা ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তৃণমূলের সাংগঠনিক বিস্তারে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য।
কাঁচরাপাড়ার সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা মুকুল রায় যুব কংগ্রেসের হাত ধরে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের সময় থেকেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন। ২০০৬ সালের সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের জমি আন্দোলনে তিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। বুথ স্তর থেকে জেলা পর্যন্ত সংগঠনের প্রতিটি খুঁটিনাটি তাঁর নখদর্পণে থাকায় তাঁকে বঙ্গ রাজনীতির ‘চাণক্য’ বলা হতো।
সংসদীয় রাজনীতিতে মুকুল রায়ের যাত্রা ছিল অত্যন্ত বর্ণময়। তিনি রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী এবং পরবর্তীকালে রেলমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলেছেন। রাজনৈতিক জীবনের শেষলগ্নে দলবদল ও নানা টানাপোড়েন থাকলেও, তৃণমূলকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিতে তাঁর কৌশল ও কঠোর পরিশ্রম ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। ২০১১ সালের ঐতিহাসিক পরিবর্তন এবং পরবর্তী পঞ্চায়েত নির্বাচনে দলের জয়ের নেপথ্যে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতাই প্রধান হাতিয়ার ছিল।

