শ্বাস নেওয়াই দায়, তিলে তিলে বিষাক্ত হচ্ছে কলকাতার বাতাসও: সমীক্ষা রিপোর্ট – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
দেশের ২৪৮টি শহরের বাতাসের মান নিয়ে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট প্রকাশ করেছে ‘সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার’ (সিআরইএ)। সেই সমীক্ষার ফলাফল পরিবেশবিদ ও সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। দেখা যাচ্ছে, ভারতের প্রায় ৫০ শতাংশ শহরের বাতাসই এখন মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বিপজ্জনকভাবে বাড়ছে বাতাসে ভাসমান সূক্ষ্ম ধূলিকণা বা পিএম ২.৫-এর মাত্রা।
গাজিয়াবাদ ও দিল্লির শোচনীয় অবস্থা
সমীক্ষায় উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদকে দেশের সবথেকে দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসে এই শহরে পিএম ২.৫-এর গড় মাত্রা ছিল প্রতি ঘনমিটারে ১৮৪ মাইক্রোগ্রাম, যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। দিল্লির পরিস্থিতিও তথৈবচ; ১৬৯ মাইক্রোগ্রাম গড় মাত্রা নিয়ে রাজধানী রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। জানুয়ারি মাসের প্রায় ২৫ দিনই এই দুই শহরের বায়ুমান ‘অত্যন্ত খারাপ’ বা ‘তীব্র’ পর্যায়ে ছিল। এছাড়া প্রথম দশটি দূষিত শহরের তালিকায় রয়েছে নয়ডা, গুরুগ্রাম, গ্রেটার নয়ডা এবং ধারুহেরার মতো অঞ্চলগুলি।
কলকাতার সংকট
তালিকায় প্রথম দশে না থাকলেও কলকাতার বাতাস নিয়ে আশ্বস্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মহানগরের বাতাসে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ৯২ মাইক্রোগ্রাম, যা ন্যাশনাল অ্যাম্বিয়েন্ট এয়ার কোয়ালিটি স্ট্যান্ডার্ড (নাকস) নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা ৬০ মাইক্রোগ্রামের চেয়েও অনেক বেশি। অর্থাৎ, তিলোত্তমার বাসিন্দারা প্রতি নিঃশ্বাসে বিষাক্ত বাতাস গ্রহণ করছেন। তুলনায় মুম্বই (৪৮ মাইক্রোগ্রাম), চেন্নাই (৪৯ মাইক্রোগ্রাম) বা বেঙ্গালুরুর (৪৪ মাইক্রোগ্রাম) অবস্থা কলকাতার থেকে অনেকটাই ভালো।
নিয়ম লঙ্ঘনের খতিয়ান
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, বাতাসের নিরাপদ মাত্রা হওয়া উচিত প্রতি ঘনমিটারে মাত্র ১৫ মাইক্রোগ্রাম। অথচ ভারতের অধিকাংশ শহর এই সীমা তো বটেই, এমনকি দেশের নিজস্ব মানদণ্ডকেও বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে। ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রামের আওতায় থাকা ৯৭টি শহরের মধ্যে ৪৬টি শহরই নির্ধারিত সীমার উপরে দূষণ ছড়াচ্ছে।
স্বস্তির খবর যেখানে
তালিকায় সবথেকে পরিচ্ছন্ন শহর হিসেবে উঠে এসেছে মধ্যপ্রদেশের দামোহ। সেখানে পিএম ২.৫-এর মাত্রা ছিল মাত্র ১৭ মাইক্রোগ্রাম। স্বচ্ছ বাতাসের এই তালিকায় কর্ণাটকের পাঁচটি শহর জায়গা করে নিয়েছে। এছাড়া জম্মু-কাশ্মীর, বিহার এবং নাগাল্যান্ডের একটি করে শহরও তুলনামূলক দূষণমুক্ত বাতাসের জন্য প্রশংসিত হয়েছে।
সিআরইএ-র বিশ্লেষক মনোজ কুমার জানান, কল-কারখানা ও পরিবহণ থেকে নির্গত ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ না করলে এবং নাইট্রোজেন ও সালফার গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে কঠোর নিয়ম জারি না করলে এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ভারতের বড় শহরগুলি অদূর ভবিষ্যতে গ্যাস চেম্বারে পরিণত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
