লেটেস্ট নিউজ

সংবিধানের অবমাননা ও রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে নবান্ন-রাজভবন সংঘাত: উত্তাল বাংলার রাজনীতি – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

২০২৬ সালের ৭ই মার্চ শিলিগুড়িতে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আচরণে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নির্ধারিত সভাস্থল পরিবর্তন এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। খোদ রাষ্ট্রপতি জনসমক্ষে তাঁর বিষণ্ণতা প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, মুখ্যমন্ত্রীর তাঁর প্রতি এমন আচরণের কারণ তিনি জানেন না। এই ঘটনাকে ভারতের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের প্রতি পরিকল্পিত অবমাননা হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

অভিযোগ উঠেছে, রাজ্য প্রশাসন শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে রাষ্ট্রপতির সভাকে শিলিগুড়ির মূল কেন্দ্র থেকে সরিয়ে এক সংকীর্ণ এলাকায় পাঠিয়েছে। অন্যদিকে, কলকাতায় ধর্নামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী বলে দাবি করেছে বিরোধী শিবির। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রক্তকরবী’ নাটকের যক্ষপুরীর রূপক টেনে সমালোচকরা বলছেন, বর্তমান বাংলার শাসনব্যবস্থা একনায়কতন্ত্রের দাপটে সংবিধানকে উপেক্ষা করছে। এই ঔদ্ধত্য ও প্রশাসনিক অসহযোগিতা দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর ওপর এক গভীর আঘাত।

জনজাতি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি তথা দেশের প্রথম নাগরিকের প্রতি এই অবহেলা পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পরিপন্থী। রাজ্যপাল থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় সংস্থা এবং এখন রাষ্ট্রপতির প্রতি সরকারের এই ধারাবাহিক আসাম্মান গভীর অশনিসংকেত প্রদান করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো গণতান্ত্রিক সরকার যদি দেশের রাষ্ট্রপতির ন্যূনতম মর্যাদা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়, তবে তা নৈতিকভাবে সমর্থনযোগ্য নয়। এই অহঙ্কারের রাজনীতি এবং সাংবিধানিক সংকটের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে এখন ধিক্কারের সুর প্রবল হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *