লেটেস্ট নিউজ

সময়ের বিবর্তন, আদিম যুগ থেকে আধুনিক ঘড়ির জয়যাত্রা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

আদিম মানুষ একসময় চাঁদ, সূর্য ও ঋতু পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে সময়ের ধারণা পেত। মেসোপটেমীয় সভ্যতায় প্রথম ২৪ ঘণ্টায় দিন এবং ৬০ মিনিটে ঘণ্টার হিসাব চালু হয়। খ্রিস্টপূর্বাব্দেই প্রাচীন মিশরীয়রা সূর্যঘড়ি ও জলঘড়ির মাধ্যমে সময় পরিমাপের কৌশল আয়ত্ত করেছিল। তবে ঋতুভেদে সেই সময়ের দৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হওয়ায় নির্ভুল হিসাবের প্রয়োজনীয়তা থেকেই যায়।

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে প্রথম যান্ত্রিক ঘড়ির উদ্ভব ঘটে, যা অভিকর্ষ বলের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তখন শহরের কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ঘণ্টা বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে সময় জানানো হতো। পরবর্তীকালে পঞ্চদশ শতাব্দীতে স্প্রিং প্রযুক্তির ব্যবহারে ঘড়ির আকার ছোট হয়ে আসে। এর ফলে সময় গণনার যন্ত্রটি মানুষের ব্যক্তিগত ব্যবহারের আওতায় চলে আসতে শুরু করে।

১৬৫৬ সালে ওলন্দাজ বিজ্ঞানী ক্রিশ্চিয়ান হাইজেনস প্রথম পেন্ডুলাম ঘড়ি আবিষ্কার করেন, যা সময় গণনায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনে। এরপর বিংশ শতাব্দীতে কোয়ার্টজ এবং সবশেষে পারমাণবিক ঘড়ির মাধ্যমে মানুষ সময়ের নিখুঁত হিসাব পেতে সক্ষম হয়। প্রাচীন আরব ও চিনের জলশক্তি চালিত ঘড়ি থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ বিবর্তন আজ আধুনিক প্রযুক্তিতে পূর্ণতা পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *