লেটেস্ট নিউজ

সর্বোচ্চ নেতা নিহতের বদলা? মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে ইরানের ৪টি ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

নিউজ ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সংঘাত এবার এক চরম ও বিপজ্জনক মোড় নিল। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা আরব সাগরে মোতায়েন করা মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-কে লক্ষ্য করে চারটি শক্তিশালী ব্যালেস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। যদি এই দাবি সত্য হয়, তবে কয়েক দশকের ইতিহাসে এটিই হবে কোনো মার্কিন রণতরীর ওপর সরাসরি সফল হামলার প্রথম ঘটনা।

সংঘাতের প্রেক্ষাপট: খামেনেইর মৃত্যু ও ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর স্মরণকালের ভয়াবহ হামলা চালায়। মার্কিন ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েলি ‘রোর অফ দ্য লায়ন’-এর আওতায় তেহরানসহ ইরানের একাধিক শহরে ৯০০-র বেশি বিমান হামলা চালানো হয়। এই হামলার মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর কার্যালয়। ইরান এবং ইসরায়েল উভয় পক্ষই নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় খামেনেইর পাশাপাশি আইআরজিসি কমান্ডার এবং সেদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীসহ একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন।

ইরানের পাল্টা আঘাত: ‘ট্রু প্রমিস-৪’

সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরান চরম প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দেয়। ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রবিবার এক বিবৃতিতে জানায়, তারা তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস-৪’-এর আওতায় মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকনে হামলা চালিয়েছে। তাসনিম নিউজ এজেন্সির মাধ্যমে জারি করা ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই এবার নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। সমুদ্র এবং স্থলভাগ হবে হামলাকারী সন্ত্রাসীদের কবরস্থান।”

রণক্ষেত্রে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন

ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন হলো আমেরিকার নিমিৎজ-ক্লাসের একটি বিশাল বিমানবাহী রণতরী। এটি বর্তমানে আরব সাগরে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) অধীনে মোতায়েন রয়েছে। এই রণতরী থেকেই এফ-৩৫সি এবং এফ/এ-১৮ যুদ্ধবিমানগুলো ইরানে বোমা বর্ষণ করেছিল। ইরানের দাবি, তারা তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ফাতেহ’ বা ‘খালিজ ফার্স’ অ্যান্টি-শিপ ব্যালেস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে এই হামলা চালিয়েছে।

ওয়াশিংটনের অস্বীকার ও ধোঁয়াশা

ইরান হামলার দাবি করলেও আমেরিকা তা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, তাদের কোনো রণতরী ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং আব্রাহাম লিংকন পুরোপুরি সচল রয়েছে। কোনো স্বাধীন সংবাদমাধ্যম বা স্যাটেলাইট চিত্রে এখনো মিসাইল আঘাত হানার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ বা প্রোপাগান্ডাও হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক: তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের পদধ্বনি?

এই সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। আবুধাবি, বাহরাইন, কাতার এবং কুয়েতের বিমানবন্দরগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। আবুধাবি সরকার আটকে পড়া পর্যটকদের হোটেলের খরচ বহনের ঘোষণা দিয়েছে। পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে, তাতে বিশ্বনেতারা আশঙ্কা করছেন যে, কূটনৈতিক পথে সমাধান না মিললে এই আঞ্চলিক সংঘাত খুব দ্রুত তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *