লেটেস্ট নিউজ

সাধারণ শিবরাত্রি ও মহাশিবরাত্রির মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত কেন? জেনে নিন এর আসল কারণ – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে প্রতি মাসেই একটি করে শিবরাত্রি আসে, যাকে আমরা ‘মাসিক শিবরাত্রি’ বলি। কিন্তু ফাল্গুন মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথি কেন ‘মহাশিবরাত্রি’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত? কেন এই রাতকে বছরের অন্য সব রাতের চেয়ে আলাদা এবং আধ্যাত্মিক দিক থেকে শক্তিশালী মনে করা হয়? ২০Store৬ সালের মহাশিবরাত্রির প্রাক্কালে এর নেপথ্যে থাকা পৌরাণিক ও বৈজ্ঞানিক রহস্যগুলি নিচে আলোচনা করা হলো।

শিব ও শক্তির মহামিলন

পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, মহাশিবরাত্রি হলো সেই পরম পবিত্র তিথি যখন দেবাদিদেব মহাদেব এবং দেবী পার্বতীর বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। দীর্ঘ কঠোর তপস্যার পর এই দিনেই পর্বতকন্যা মহাদেবকে স্বামী রূপে লাভ করেন। আধ্যাত্মিক মতে, এটি কেবল একটি বিবাহ নয়, বরং পুরুষ ও প্রকৃতির অর্থাৎ ‘শিব ও শক্তি’র মিলনের প্রতীক। অন্যান্য মাসিক শিবরাত্রিতে কেবল শিবের আরাধনা করা হলেও, মহাশিবরাত্রি আমাদের ত্যাগের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনের ভারসাম্যের শিক্ষা দেয়।

জ্যোতির্লিঙ্গের আবির্ভাব ও সৃষ্টি-ধ্বংসের চক্র

একটি মত অনুসারে, এই বিশেষ তিথিতেই মহাদেব প্রথম ‘জ্যোতির্লিঙ্গ’ রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন—যার আদি বা অন্ত নেই। এই দিনটি অজ্ঞতার অন্ধকার দূর করে জ্ঞানের আলো প্রতিষ্ঠার প্রতীক। আবার অনেকের মতে, এই রাতেই মহাদেব তাঁর প্রলয়ংকরী ‘তাণ্ডব নৃত্য’ করেছিলেন, যা মহাবিশ্বের সৃষ্টি এবং ধ্বংসের চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই এই রাতে শিবের উপাসনা করলে অন্য সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি শুভ ফল পাওয়া যায় বলে ভক্তদের বিশ্বাস।

মহাজাগতিক শক্তি ও বৈজ্ঞানিক তাৎপর্য

মহাশিবরাত্রির গুরুত্ব কেবল ধর্মের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এর একটি জোরালো বৈজ্ঞানিক ও প্রাকৃতিক দিকও রয়েছে। এই রাতে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ এমন এক অবস্থানে থাকে, যার ফলে মানুষের শরীরের অভ্যন্তরীণ শক্তি স্বাভাবিকভাবেই ওপরের দিকে প্রবাহিত হয়। এই প্রাকৃতিক শক্তির সদ্ব্যবহার করার জন্যই মহাশিবরাত্রির রাতে মেরুদণ্ড সোজা করে জেগে থাকার বা ধ্যানের প্রথা রয়েছে। বছরের অন্য কোনো মাসিক শিবরাত্রিতে মহাজাগতিক শক্তির এই বিশেষ প্রভাব এতটা প্রবল থাকে না।

আধ্যাত্মিক মুক্তি ও সিদ্ধরাত্রি

মহাশিবরাত্রিকে ‘সিদ্ধরাত্রি’ বলা হয় কারণ এই রাতে করা প্রার্থনা সরাসরি মহাদেবের কাছে পৌঁছায় বলে মনে করা হয়। এটি আত্মচিন্তা এবং গভীর ধ্যানের মাধ্যমে নিজের ভেতরের ক্রোধ, লোভ ও আসক্তি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়। জীবনকে সঠিক পথে চালিত করতে এবং মোক্ষ বা মুক্তির পথ প্রশস্ত করতে মহাশিবরাত্রির মাহাত্ম্য অপরিসীম।

২০২৬ সালের মহাশিবরাত্রির নির্ঘণ্ট

এই বছর মহাশিবরাত্রি পালিত হবে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি। পঞ্জিকা অনুসারে, চতুর্দশী তিথি শুরু হচ্ছে ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ০৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *