সিআইএ-র অসাধ্য সাধন নাকি ঘরের শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা, কোন কৌশলে খতম হলেন খামেনেই – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: ইরানের বুক চিরে খোদ তেহরানের সুরক্ষিত কম্পাউন্ডে ঢুকে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেনেইকে খতম করার ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ এবং ইজরায়েলের মোসাদ কীভাবে এই আসাম্ভবকে সম্ভব করল, তা নিয়ে এখন উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। এটি কি কেবল অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কারসাজি নাকি খোদ ইরানের প্রশাসনের অন্দরেই লুকিয়ে ছিল কোনো বড় মাপের বিশ্বাসঘাতক?
তদন্তে উঠে আসছে যে সিআইএ দীর্ঘদিন ধরেই খামেনেইর প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর নজরদারি চালাচ্ছিল। বিশেষ করে গত বছর আইআরজিসি নেতাদের মধ্যে হওয়া গোপন যোগাযোগের তথ্য হাতে পাওয়ার পর থেকেই খামেনেইর চলাফেরার একটি নিখুঁত ‘ডিজিটাল ম্যাপ’ তৈরি করে ফেলেছিল মার্কিন গোয়েন্দারা। নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইজরায়েলের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল ইরানের সামরিক ঘাঁটিতে রাতের অন্ধকারে হামলা চালানো। কিন্তু খামেনেই তার শীর্ষ উপদেষ্টাদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকে বসবেন— এমন গোপন খবর আসতেই পুরো ছক বদলে যায়।
শনিবার সন্ধ্যায় বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও মোসাদ জানতে পারে যে বৈঠকটি হবে শনিবার সকালেই তেহরানের একটি অত্যন্ত গোপন ও সুরক্ষিত কমপ্লেক্সে। যেখানে প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে শুরু করে জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সদর দপ্তর অবস্থিত। এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি ওয়াশিংটন ও তেল আভিভ। ভোর ৬টায় ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান উড়াল দেয় এবং ঠিক ২ ঘণ্টা ৫ মিনিট পর অর্থাৎ সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে দূরপাল্লার ‘প্রিসিশন গাইডেড’ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে সেই নির্দিষ্ট ভবনে।
ইরানি প্রশাসন ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি যে তাদের রাজধানীর হৃদপিণ্ডে এমন নিখুঁত ও অতর্কিত হামলা হতে পারে। খামেনেইকে গা ঢাকা দেওয়ার বিন্দুমাত্র সুযোগ দেয়নি ঘাতক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো। এই অপারেশনের পর এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তা বেষ্টনী নিয়ে। অত্যন্ত সুরক্ষিত এই বৈঠকের খবর কীভাবে শত্রুপক্ষের কানে পৌঁছাল? গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের মতে, সিআইএ-র প্রযুক্তি যেমন উন্নত ছিল, তেমনই ইরানি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরে কোনো ‘ইনসাইডার’ বা ঘরের শত্রু হয়তো তথ্য পাচার করেছে। দীর্ঘ প্রস্তুতি, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং অভ্যন্তরীণ ফাটল— এই তিনের মিশেলেই খামেনেইর অধ্যায় চিরতরে স্তব্ধ করে দিল আমেরিকা ও ইজরায়েল।

