হিম্মত থাকলে একই মঞ্চে আসুন প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

মালদার হবিবপুরের নির্বাচনী জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি বিতর্কের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, “হিম্মত থাকলে একই মঞ্চে এসে মুখোমুখি বসুন, আমি আপনার মুখোশ খুলে দেব।” প্রধানমন্ত্রীর টেলিপ্রম্পটার নির্ভর বক্তৃতার সমালোচনা করে তিনি দাবি করেন, লিখে রাখা কাগজের বাইরে মোদি কোনো কথাই বলতে পারেন না। ২০২৪ সালের ভোটার তালিকায় ‘অনুপ্রবেশকারী’র অভিযোগ তুলে মমতা পালটা প্রশ্ন করেন, যদি এখানকার ভোটাররা অনুপ্রবেশকারীই হন, তবে তাদের ভোটে জেতা প্রধানমন্ত্রীর আগে পদত্যাগ করা উচিত।
রাজ্যের শাসকদলের প্রধান এদিন বিজেপিকে ‘৪২০’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি সিপিএমের অতীত অত্যাচারের কথাও স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাম আমলের ‘হার্মাদ’রাই এখন বিজেপির ‘জল্লাদ’ হিসেবে কাজ করছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি স্থানীয়দের সতর্ক করে বলেন, নাম বাদ পড়লে দ্রুত অনলাইনে ফর্ম পূরণ করে ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় তৃণমূল কর্মীরা এবং দলীয় আইনজীবীরা সাধারণ মানুষকে সবরকম সাহায্য করবেন বলেও তিনি আশ্বাস দেন। বিজেপি ও কংগ্রেসের দিকে আঙুল তুলে তিনি বলেন, অতীতে এই অঞ্চলে কেউ আসত না, কিন্তু এখন তারা ভোটারদের হেনস্থা করতে সক্রিয় হয়েছে।
বিজেপি নেতৃত্বের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও কড়া ভাষায় বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। মণিপুরের অশান্ত পরিস্থিতির কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আগে মণিপুর সামলান মোটাভাই।” লোকসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দলীয় কর্মীদের ‘সম্পদ’ হিসেবে অভিহিত করে এবং কর্মকেই ধর্ম মেনে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি। পরিশেষে, সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করে দেন যে, বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করতে তৃণমূল কংগ্রেস একাই যথেষ্ট। তাঁর এই আক্রমণাত্মক মেজাজ মালদার রাজনৈতিক সমীকরণকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
