১৩ বছরের লড়াই শেষ! নিষ্কৃতি মৃত্যুতে চিরঘুমে ভারতের প্রথম প্যাসিভ ইউথেনেসিয়া পাওয়া হরিশ রানা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
১৩ বছর কোমায় থাকার পর অবশেষে যন্ত্রণামুক্ত হলেন হরিশ রানা। মঙ্গলবার দিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন তিনি। ভারতের বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে এটিই প্রথম ‘প্যাসিভ ইউথেনেসিয়া’ বা পরোক্ষ নিষ্কৃতি মৃত্যুর ঘটনা। Supreme \titleonly কোর্টের নির্দেশে লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার ১০ দিন পর মৃত্যু হলো এই মেধাবী যুবকের।
ঐতিহাসিক আইনি লড়াই ও Supreme \titleonly রায়
পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার হরিশ ২০১৩ সাল থেকে মেনিঞ্জাইটিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী ছিলেন। দীর্ঘ ১৩ বছর ছেলের এই নিদারুণ কষ্ট সহ্য করতে না পেরে তাঁর মা-বাবা আদালতের দ্বারস্থ হন। গত ১১ মার্চ Supreme \titleonly কোর্ট সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হরিশকে নিষ্কৃতি মৃত্যুর অধিকার দেয়। ২০১৮ সালের ঐতিহাসিক ‘কমন কজ’ নির্দেশিকা মেনে এই রায় দেওয়া হয়েছিল।
শেষ ১০ দিনের লড়াই
আদালতের নির্দেশে লাইফ সাপোর্ট এবং সমস্ত কৃত্রিম খাদ্যনালী খুলে নেওয়ার পর গত ১০ দিন খাবার ও জল ছাড়াই বেঁচেছিলেন ৩২ বছর বয়সি হরিশ। তাঁর এই জীবনীশক্তি দেখে অবাক হয়েছিলেন চিকিৎসকরাও। অবশেষে মঙ্গলবার সব লড়াইয়ের অবসান ঘটল।
পরিবার ও চিকিৎসকদের প্রতিক্রিয়া
ছেলের মৃত্যুতে ভেঙে পড়লেও দীর্ঘ কষ্টের অবসান হওয়ায় স্বস্তিতে পরিবার। হরিশের বাবা অশোক রানা বলেন, “কোনো মা-বাবাই সন্তানের মৃত্যু চায় না, কিন্তু ওর কষ্ট আর দেখা যাচ্ছিল না।” ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (IMA) এই রায়কে মানবিক বলে অভিহিত করেছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এমন জটিল পরিস্থিতির মোকাবিলায় নির্দিষ্ট জাতীয় নীতি তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

