২০২৬ সালের মধ্যে আকাশছোঁয়া হবে সোনার দাম! জেপি মর্গ্যানের ভবিষ্যদ্বাণীতে ঘুম উড়ল বিনিয়োগকারীদের – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নিউজ ডেস্ক
স্বর্ণ ও রুপো কি আপনার বিনিয়োগের তালিকায় রয়েছে? তাহলে বিশ্ববিখ্যাত বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির সাম্প্রতিক রিপোর্ট আপনাকে চমকে দিতে পারে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেই জেপি মর্গ্যান (JP Morgan) এবং ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা (BofA) মূল্যবান ধাতুর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস দিয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী দিনে সোনার জেল্লা কমার পরিবর্তে আরও বাড়বে। বিনিয়োগকারীদের জন্য যা বড়সড় সুখবর হয়ে আসতে চলেছে।
সোনা নিয়ে জেপি মর্গ্যানের বড় বাজি
বিখ্যাত বিনিয়োগকারী ব্যাঙ্ক জেপি মর্গ্যান তাদের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস সংশোধন করে জানিয়েছে যে, সোনার দামে এক বিশাল লাফ দেখা দিতে পারে। ব্যাঙ্কের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৬,৩০০ ডলারের ঐতিহাসিক স্তরে পৌঁছে যেতে পারে। এর আগে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪,৫০০ ডলার। বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলোর ক্রমাগত সোনা কেনা এবং বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সোনা জমানোর প্রবণতাই এই আকাশচুম্বী দামের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন বাড়ছে সোনার চাহিদা?
চলতি বছরে এখন পর্যন্ত স্পট গোল্ড বা খুচরো সোনার দামে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
- ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: বিশ্বজুড়ে অস্থির পরিস্থিতির কারণে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন।
- সুদের হার হ্রাস: যখন সুদের হার কমার সম্ভাবনা থাকে, তখন সোনা বা রুপোর মতো সম্পদের প্রতি আকর্ষণ বাড়ে।
- রেকর্ড স্তর: জানুয়ারি মাসেই সোনা নিজের রেকর্ড স্তর ছুঁয়ে ফেলেছিল এবং বর্তমানে এটি গত তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।
রুপোর বাজারেও বড় চমক
রুপো নিয়ে ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকার (BofA) দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা আলাদা হলেও তা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। ব্যাঙ্কের মতে, স্বল্প মেয়াদে রুপোর দামে কিছুটা মন্দা বা চাপ দেখা দিলেও দীর্ঘমেয়াদী চিত্রটি অত্যন্ত উজ্জ্বল।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই বছরের মধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে রুপোর দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। শিল্পক্ষেত্রে রুপোর চাহিদা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে গ্রিন এনার্জি বা পরিবেশবান্ধব শক্তি খাতে এর ব্যবহার বেড়ে যাওয়াই হবে এই দাম বাড়ার নেপথ্য কারণ।

