২০২৬ সালে ‘সুপার এল নিনো’র আশঙ্কা: চরম আবহাওয়ার কবলে পড়তে পারে বিশ্ব
প্রশান্ত মহাসাগরের উপরিভাগের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০২৬ সালে শক্তিশালী ‘সুপার এল নিনো’ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদগণ। সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে গেলে তাকে সুপার এল নিনো বলা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রের গভীর স্তরে সঞ্চিত অতিরিক্ত তাপ ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে দক্ষিণ আমেরিকায় অতিবৃষ্টি ও বন্যা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র খরার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া বিশ্বজুড়ে বাড়তে পারে অসহনীয় তাপপ্রবাহ, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, শিল্প-পূর্ব যুগের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় এল নিনোর তীব্রতা আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। যদিও ২০২৬ সালে সুপার এল নিনোর বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়, তবে বর্তমান তাপমাত্রার প্রবণতা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। বিশ্ব অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে সম্ভাব্য এই বিপর্যয় মোকাবিলায় এখন থেকেই আন্তর্জাতিক স্তরে সতর্কতা ও প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

