লেটেস্ট নিউজ

২০ লাখ টাকা পর্যন্ত সম্পত্তি কেনাবেচায় আর লাগবে না প্যান কার্ড! বিরাট সুখবর দিচ্ছে আয়কর দপ্তর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বাড়ি বা জমি কেনার পরিকল্পনা করছেন? তবে আপনার জন্য রয়েছে এক স্বস্তিদায়ক খবর। দেশের মধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে সম্পত্তি কেনাবেচার নিয়মে আমূল পরিবর্তন আনতে চলেছে আয়কর দপ্তর। প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন থেকে কম মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি লেনদেনের ক্ষেত্রে আর প্যান কার্ড (PAN Card) জমা দেওয়ার বাধ্যতামূলক নিয়ম থাকছে না। সরকার এই সীমার অঙ্ক এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করতে চলেছে, যা রিয়েল এস্টেট বাজারে বড়সড় প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে কী নিয়ম রয়েছে

বিদ্যমান আয়কর আইন অনুসারে, যদি কেউ ১০ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের কোনো স্থাবর সম্পত্তি যেমন— বাড়ি, দোকান বা প্লট কেনেন বা বিক্রি করেন, তবে দলিলে প্যান কার্ড নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বর্তমান সময়ের আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি এবং জমির উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া দামের কথা মাথায় রেখে সরকার মনে করছে যে এই ১০ লক্ষ টাকার সীমা এখন অত্যন্ত কম। সেই কারণেই নতুন ড্রাফট নিয়মে এই ঊর্ধ্বসীমা ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর সহজ অর্থ হলো, আপনার সম্পত্তির ডিল যদি ২০ লক্ষ টাকার নিচে হয়, তবে প্যান কার্ডের ঝক্কি এবং আনুষঙ্গিক জটিল কাগজের কাজ থেকে আপনি মুক্তি পাবেন।

সবথেকে বেশি লাভবান হবেন কারা

সরকারের এই সাহসী পদক্ষেপের ফলে সবথেকে বেশি উপকৃত হবেন ছোট শহর, মফস্বল এবং গ্রামগঞ্জের মানুষ। এই এলাকাগুলোতে আজও ১৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার মধ্যে ছোট বসতবাড়ি বা এক টুকরো জমি পাওয়া সম্ভব। এতদিন এই ধরনের ছোট ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রেও প্যান কার্ডের বাধ্যবাধকতার কারণে সাধারণ মানুষকে অনেক আইনি আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হতো। নিয়ম পরিবর্তনের পর এই ছোট ট্রানজ্যাকশনগুলো যেমন সহজ হবে, তেমনই রেজিস্ট্রি বা নিবন্ধীকরণ প্রক্রিয়াতেও অনেক গতি আসবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রিয়েল এস্টেট মার্কেটের বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করেই এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

সুবিধার পাশাপাশি নজরদারিও হবে কঠোর

একদিকে যখন ছোট ক্রেতাদের স্বস্তি দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বড় এবং জটিল লেনদেনগুলোর ওপর কড়া নজরদারি চালানোর প্রস্তুতিও সারছে সরকার। ড্রাফট নিয়মে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, যদি কেউ ‘উপহার’ হিসেবে সম্পত্তি পান কিংবা ‘জয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট এগ্রিমেন্ট’-এর অধীনে জমি বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর হয়, তবে সেগুলোকে প্যান কার্ডের আওতায় আনা হতে পারে (যদি সম্পত্তির মূল্য নির্ধারিত সীমার বেশি হয়)। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যাতে কোনো বড় মাপের আর্থিক লেনদেন আয়কর দপ্তরের নজর এড়িয়ে না যায় এবং কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করা যায়।

কবে থেকে কার্যকর হতে পারে এই নতুন নিয়ম

উল্লেখ্য যে, এগুলি বর্তমানে ‘খসড়া বা ড্রাফট নিয়ম’ হিসেবে পেশ করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকার এগুলি সাধারণ মানুষ এবং বিশেষজ্ঞদের মতামতের জন্য প্রকাশ করেছে। সকলের ফিডব্যাক এবং চূড়ান্ত পর্যালোচনার পরেই এই প্রস্তাব আইনি রূপ পাবে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে দেশজুড়ে এই নতুন নিয়ম কার্যকর হতে পারে। ট্যাক্স বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বাজার দর অনুযায়ী ২০ লক্ষ টাকার এই প্রস্তাবিত সীমা অত্যন্ত জরুরি ছিল, কারণ বর্তমান যুগে ১০ লক্ষ টাকার নিচে ভালো সম্পত্তি পাওয়া কার্যত আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *