২২ লাখি মাওবাদী নেতাকে খুন করল নিজেরই কমান্ডার, ওড়িশার জঙ্গলে চরম নাটকীয়তা – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
ওড়িশার কান্ধমাল জেলার গহীন জঙ্গলে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। নিজের দলেরই শীর্ষ নেতার হাতে প্রাণ হারালেন ২২ লক্ষ টাকা ইনামি মাওবাদী কমান্ডার অন্বেষ ওরফে রেণু। পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে পারেন, এই সন্দেহের বশেই খোদ মাওবাদী নেতারাই তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
আত্মসমর্পণের পরিকল্পনা ফাঁস হতেই ঘাতক নিজেরই সাথীরা
কান্ধমালের পুলিশ সুপার হরিশ বিসি জানিয়েছেন, ছত্তিশগড়ের সুकमा জেলার বাসিন্দা অন্বেষ আদতে মাওবাদীদের ‘কেকেবিএন’ (কালাহান্ডি-কান্ধমাল-বৌধ-নয়াগড়) ডিভিশনের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ডার ছিলেন। তিনি গত কয়েকদিন ধরে ওড়িশা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই খবর মাওবাদী নেতা সুক্রুর কানে পৌঁছাতেই শুরু হয় সংঘাত। অভিযোগ, সুক্রু ও তার সঙ্গীরা মিলে গত ২৯ জানুয়ারি অন্বেষকে কুপিয়ে খুন করে এবং দরিংবাড়ি থানার পাকরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে মাটি চাপা দিয়ে দেয়।
জঙ্গল থেকে উদ্ধার পচাগলা দেহ
গত বুধবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সেই বনভূমি থেকে অন্বেষের পচাগলা মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অন্বেষের এই পদক্ষেপ মাওবাদী নেতৃত্বের মধ্যে বড়সড় ফাটল ধরিয়েছিল। রাজ্য আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সুক্রু নিজের আধিপত্য বজায় রাখতেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
মাওবাদী শিবিরে তীব্র অন্তর্দ্বন্দ্ব
সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে মাওবাদী সংগঠনগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২০২৬ সালের মধ্যে দেশ থেকে নকশাল দমনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার পর থেকেই আত্মসমর্পণের হিড়িক বেড়েছে। গোয়েন্দাদের মতে, পুলিশের নজরদারি এবং সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পের প্রভাবে নিচুতলার ক্যাডার থেকে শুরু করে বড় কমান্ডারদের মধ্যেও মোহভঙ্গ ঘটছে। আর এই প্রবণতা রুখতে নিজেদেরই সাথীদের টার্গেট করছে মাওবাদী নেতৃত্ব, যা তাদের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।

