৩ লক্ষের বেশি ব্যবসা লাটে! মোদি জমানায় স্টার্ট আপ আর মাঝারি শিল্পে বড়সড় ধস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
নয়াদিল্লি: ‘আমার রক্তে বিজনেস’, প্রধানমন্ত্রীর এই চেনা সংলাপের আড়ালেই কি লুকিয়ে ছিল এক চরম বিপর্যয়ের ইঙ্গিত? বছরে ২ কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি কার্যত ফিকে করে দিয়ে এখন শিরোনামে উঠে আসছে বন্ধ হয়ে যাওয়া লক্ষ লক্ষ ব্যবসার করুণ পরিসংখ্যান। তথাকথিত ‘আচ্ছে দিন’-এর গালভরা প্রচার চললেও খোদ সরকারি রিপোর্টই বলছে অন্য কথা। স্টার্ট আপ ইন্ডিয়া থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প— সর্বত্রই এখন তালা ঝোলার মরসুম।
বাণিজ্য মন্ত্রকের পেশ করা হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে অনুমোদিত স্টার্ট আপের সংখ্যা ২ লক্ষ পেরিয়ে গেলেও এর মধ্যে বড় একটি অংশ ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে গত ১০ বছরে মুখ থুবড়ে পড়েছে মোদি সরকারের অন্যতম উচ্চাভিলাষী এই প্রকল্প। কিন্তু কেন এই করুণ দশা? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নোট বাতিল, ত্রুটিপূর্ণ জিএসটি এবং পরিকল্পনাহীন লকডাউনই এই পতনের মূল কারণ। সরকারি নথি বলছে, গত ছয় বছরে ১ লক্ষ ৩৭ হাজারেরও বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME) বন্ধ হয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয়, গত পাঁচ বছরে প্রায় ১ লক্ষ ৮৯ হাজার সংস্থা নিজেদের ব্যবসা থেকে সরিয়ে নিয়েছে।
সব মিলিয়ে ৩ লক্ষ ৩৩ হাজারের বেশি সংস্থা এখন বিলুপ্ত। উদ্বেগের বিষয় হলো, এর মধ্যে মহিলা পরিচালিত স্টার্ট আপের সংখ্যাও কম নয়। তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক ক্ষেত্রেও ব্যবসায় টিকে থাকা আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইটি সেক্টর থেকে শুরু করে কৃষি কিংবা খাদ্য সরবরাহ— কোনও ক্ষেত্রই এই ধসের হাত থেকে রেহাই পায়নি। সরকারের বিপণন কৌশলের চাকচিক্য থাকলেও বাস্তবের মাটিতে যে হাজার হাজার উদ্যোক্তা নিঃস্ব হয়েছেন, সেই অপ্রিয় সত্যই এখন মোদি জমানার নয়া পরিসংখ্যান হয়ে সামনে এল।

