৫ বছর ধরে শেয়ার ধরে রেখেও লগ্নিকারীদের ঝুলিতে এল শূন্য এবং হু হু করে কমছে টাটাদের এই স্টকের দাম – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
১. টাটাদের এই স্টকে বিনিয়োগ করে ঘোর বিপাকে বিনিয়োগকারীরা কারণ ৫ বছরে রিটার্ন মিলল মোটে ০ শতাংশ
২. আকাশছোঁয়া দাম থেকে সোজা মাটিতে আছাড় খেল টিসিএস এবং এক ধাক্কায় ৪৪ শতাংশ ডুবল লগ্নিকারীদের টাকা
৩. এআই-এর দাপটে কি এবার শেষ হবে আইটি শেয়ারের রাজত্ব কারণ ৫ বছর আগের দামে ফিরে গেল টিসিএস
কলকাতা দেশের অন্যতম বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস বা টিসিএস-এর শেয়ার নিয়ে এখন বাজারে হাহাকার তুঙ্গে। নিরাপদ বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত লাভের আশায় যারা এই লার্জক্যাপ স্টকে বাজি ধরেছিলেন, শুক্রবারের শেয়ার বাজার পতনের পর তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া হয়েছে। গত ৫ বছর ধরে যারা এই শেয়ার ধরে রেখেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের লাভের ভাঁড়ার এখন শূন্য।
এক ধাক্কায় ৪৪ শতাংশ পতন
২০২৪ সালের অগাস্ট মাসেও টিসিএস-এর শেয়ার পৌঁছে গিয়েছিল ৪৫৯২ টাকার সর্বোচ্চ স্তরে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টো। শুক্রবার এই শেয়ারের দাম ৪৪ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ২৫৮৫ টাকায়। এই পতনের ফলে সংস্থার বাজারমূল্য বা মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন কমে হয়েছে ৯.৬০ লক্ষ কোটি টাকা। মাত্র কয়েকদিন আগেও বাজারমূল্যের নিরিখে ভারতীয় কো ম্পা নিগুলোর মধ্যে টিসিএস চতুর্থ স্থানে ছিল, যা এখন নেমে এসেছে ষষ্ঠ স্থানে।
৫ বছরের রিটার্ন এখন শূন্য
শেয়ার বাজারের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত শুক্রবারের পতনের পর টিসিএস-এর শেয়ার ২০২০ সালের ২২ সেপ্টেম্বরের দরে ফিরে গিয়েছে। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারী যদি ৫ বছর আগে এই শেয়ার কিনে আজ পর্যন্ত ধরে রাখেন, তবে তাঁর মোট লাভ বা রিটার্ন এখন ০ শতাংশ। টিসিএস-এর পাশাপাশি ইনফোসিস এবং উইপ্রোর মতো বড় আইটি সংস্থাগুলোর শেয়ারের দামও ১০ শতাংশ পর্যন্ত পড়েছে।
কেন এই ধস এবং কোথায় আসল চিন্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর উত্থানই আইটি সংস্থাগুলোর জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি এআই সংস্থা ‘অ্যানথ্রোপিক’ দাবি করেছে যে, বর্তমান আইটি কো ম্পা নিগুলো গ্রাহকদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নেয় এবং কাজ করতেও অনেক বেশি সময় নেয়। এই মন্তব্যের পর থেকেই আইটি সংস্থাগুলোর ব্যবসার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ডেটা অ্যানালিটিক্স থেকে শুরু করে কাস্টোমার সাপোর্ট— সব ক্ষেত্রেই এআই-এর থাবা বসানোর আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা এখন অত্যন্ত সতর্ক।
শেয়ার বাজারে বড় বিপর্যয়
উল্লেখ্য যে, শুক্রবার ভারতের শেয়ার বাজারে বড়সড় ধস নেমেছে। নিফটি ৩৩৬ পয়েন্ট এবং সেনসেক্স প্রায় ৮২৬০০ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমে যাওয়ায় মাত্র একদিনেই বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকা ডুবে গিয়েছে। এমন টালমাটাল অবস্থায় টিসিএস-এর শেয়ার আরও কতটা নিচে নামবে, তা নিয়েই এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।

