৫ ম্যাচে ৭৫ গোল খেয়েছে, চরম লজ্জায় দল তুলে নিল মহমেডান – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
February 20, 202610:04 am
কলকাতা ফুটবলের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্য ধুলোয় মিশল মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হাত ধরে। সাব-জুনিয়র লিগের আসরে মাত্র ৫টি ম্যাচ খেলে ৭৫টি গোল হজম করে কার্যত ফুটবল বিশ্বের হাসির খোরাক হয়ে উঠল সাদা-কালো শিবির। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, লজ্জার হাত থেকে বাঁচতে মাঝপথেই টুর্নামেন্ট থেকে দল তুলে নেওয়ার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ক্লাব কর্তৃপক্ষ।
মোহনবাগানের কাছে ২৩ গোল এবং নজিরবিহীন বিপর্যয়
এই মরসুমের সাব-জুনিয়র লিগে মহমেডানের পারফরম্যান্স কেবল হতাশাজনক নয়, বরং নজিরবিহীন কলঙ্কের। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের কাছে এক ম্যাচেই ২৩ গোল হজম করতে হয়েছে তাদের। ৫ ম্যাচের মধ্যে কোনোটিতেই ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়তে পারেনি মহমেডান। রক্ষণের কঙ্কালসার দশা এবং পরিকল্পনাহীন ফুটবলের জেরে প্রতিটি ম্যাচেই এক ডজনের বেশি গোল খাওয়ার রেকর্ড গড়েছে দলের ছোটরা।
কেন এই ভরাডুবি? দায় ঝেড়ে ফেলছে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট
ক্লাবের এই শোচনীয় অবস্থার পর মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন শীর্ষ কর্তারা। মহমেডান কর্তৃপক্ষের সাফাই, বর্তমানে তাদের সমস্ত মনোযোগ এবং শক্তি ইন্ডিয়ান সুপার লিগ বা আইএসএল-এ বিনিয়োগ করা হয়েছে। আইএসএলের মূল দল নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণেই বয়সভিত্তিক এই দলের দিকে নজর দেওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ প্রস্তুতির অভাব এবং পরিকাঠামোগত খামতিই এই ৭৫ গোল খাওয়ার মূল কারণ।
সচিবের তোপ এবং প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা
এই ঐতিহাসিক ব্যর্থতাকে ‘চরম লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ক্লাব সচিব ইস্তিয়াক আহমেদ রাজু। তিনি সরাসরি আঙুল তুলেছেন দল গঠনের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের দিকে। সচিবের মতে, মহমেডানের মতো ক্লাবের জার্সি গায়ে দিয়ে এমন পারফরম্যান্স কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কাদের গাফিলতিতে এই ফুটবলারদের নির্বাচন করা হয়েছিল এবং কেন কোনো ব্যাক-আপ পরিকল্পনা ছিল না, তা নিয়ে ক্লাবের অন্দরে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে।
শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের এই ‘আত্মসমর্পণ’ ফুটবল প্রেমীদের মনে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে। আইএসএলের জৌলুসের আড়ালে ক্লাবের তৃণমূল স্তরের ফুটবল কি তবে সত্যিই অবহেলার শিকার? লিগ থেকে দল তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই অস্বস্তিকর সত্যটাকেই আরও একবার স্পষ্ট করে দিল।

