অগ্নিগর্ভ ইরান: নিয়ন্ত্রণের বাইরে পরিস্থিতি, পুড়ছে যানবাহন ও সরকারি সম্পত্তি – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
তেহরান: চরম বিশৃঙ্খলা ও সংঘাতের আবহে কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে ইরান। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত দুই সপ্তাহ ধরে খামেনি সরকারের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আছড়ে পড়েছে জনবিক্ষোভ। এরই মধ্যে ইরানের প্রাক্তন রাজপরিবারের সদস্য রেজা পাহলভি এক বিশাল প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিলে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
পহলভিপন্থী সমর্থক এবং সরকার বিরোধীরা রাজপথে নেমে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ শুরু করেছে। তেহরানসহ একাধিক শহরে যানবাহন পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনীও বিক্ষোভকারীদের দমনে হিমশিম খাচ্ছে।
অচল জনজীবন, অন্ধকারে একাধিক শহর
ইরানের চতুর্থ বৃহত্তম শহর কারাজসহ বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। রাস্তায় সারিবদ্ধ গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। সংঘাতের জেরে বর্তমানে ইরানে স্টারলিংক এবং জিপিএস সিগনাল সম্পূর্ণ বিকল হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ায় সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় একাধিক শহর এখন অন্ধকারে নিমজ্জিত।
খামেনির পালটা হুঁশিয়ারি
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বার্তার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি ট্রাম্পকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, “ইতিহাস সাক্ষী, উদ্ধত ও স্বৈরাচারী শাসকদের পতন অনিবার্য।” খামেনির অভিযোগ, ওয়াশিংটন ষড়যন্ত্র করে ইরানে এই অস্থিরতা তৈরি করেছে। তিনি ফেরাউন ও নমরুদের মতো শাসকদের উদাহরণ টেনে বর্তমান প্রতিপক্ষকে পতনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ট্রাম্পের সতর্কতা
ইরানের বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই ডোনাল্ড ট্রাম্প দফায় দফায় তেহরানকে সতর্ক করছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান সরকার যদি বিক্ষোভকারীদের ওপর সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে, তবে আমেরিকা চুপ করে বসে থাকবে না। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “জনগণের কোনো ক্ষতি করা হলে আমরা অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা নেব।”
কেন এই গণবিক্ষোভ?
ইরানের অর্থনীতির দীর্ঘদিনের বেহাল দশা এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা দেশটিকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে গত জুন মাসে ইজরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের পর আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সম্পদের অপচয় সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।
২০২৫ সালে ইরানি মুদ্রার মান ডলারের বিপরীতে প্রায় অর্ধেক কমে গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ডিসেম্বরে মুদ্রাস্ফীতি ৪২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম এবং আমদানিনির্ভর ব্যবসায় ধস নামায় সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন গণবিদ্রোহে রূপ নিয়েছে, যা সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।

