অজিত পাওয়ারের প্রয়াণ: নারী পাইলটকে নিয়ে সেই পুরনো টুইটই কি কাল হলো? বিমানে প্রাণ হারালেন আরও ৪ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক শোকাতুর সকাল। বারামতির কাছে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার। বুধবার সকালে ল্যান্ডিংয়ের সময় তাঁর চার্টার্ড বিমানটি বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অজিত পাওয়ারের ২০২৪ সালের একটি পুরনো টুইট ভাইরাল হয়েছে, যা এখন নেটিজেনদের চোখে এক নিদারুণ এবং যন্ত্রণাদায়ক সংযোগ।
ভাইরাল হওয়া সেই টুইট ও কাকতালীয় ঘটনা
গত বছরের ১৮ জানুয়ারি অজিত পাওয়ার একটি টুইটে লিখেছিলেন, “আমরা যখন হেলিকপ্টার বা বিমানে যাতায়াত করি এবং সেটি যদি খুব মসৃণভাবে ল্যান্ড করে, তবে আমরা বুঝে যাই যে পাইলট একজন নারী।” নারী ক্ষমতায়নের প্রশংসা করে করা সেই টুইটটি আজ শোকের আবহে ফিরে এসেছে। কারণ, দুর্ঘটনায় পড়া লিয়ারজেট ৪৫ বিমানটির কো-পাইলট ছিলেন শাম্ভবী পাঠক নামে এক নারী।
কীভাবে ঘটল এই দুর্ঘটনা?
দিল্লির ভিএসআর ভেঞ্চারস দ্বারা পরিচালিত বিমানটি বারামতি বিমানবন্দরে ল্যান্ড করার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, রানওয়ে পরিষ্কার না থাকায় প্রথমবার ল্যান্ডিং এড়িয়ে পাইলট বিমানটি আকাশে ঘোরান (Go-around)। দ্বিতীয়বার সকাল ৮:৪৩ মিনিটে ল্যান্ডিংয়ের অনুমতি পেলেও এক মিনিটের মধ্যেই রানওয়ের বাম পাশে আছড়ে পড়ে বিমানে আগুন ধরে যায়। এতে অজিত পাওয়ারসহ মোট পাঁচজন নিহত হন।
পাইলটদের পরিচয় ও যান্ত্রিক ত্রুটির প্রশ্ন
বিমানের মূল পাইলট সুমিত কাপুর ছিলেন অত্যন্ত অভিজ্ঞ, যাঁর ১৫ হাজার ঘণ্টার বেশি ওড়ানোর অভিজ্ঞতা ছিল। কো-পাইলট শাম্ভবী পাঠকেরও ছিল ১৫০০ ঘণ্টার অভিজ্ঞতা। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিজ্ঞতার অভাব নয়, বরং বারামতি বিমানবন্দরের পরিকাঠামো বা যান্ত্রিক ত্রুটিই হতে পারে এই বিপর্যয়ের কারণ। উল্লেখ্য, এই একই কো ম্পা নির একটি বিমান ২০২৩ সালেও মুম্বইতে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিল।
পরিকাঠামোর অভাব কি কেড়ে নিল প্রাণ?
বারামতি বিমানবন্দরটি একটি ‘আনকন্ট্রোলড অ্যারোড্রোম’। এখানে নিয়মিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC) বা ইনস্ট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (ILS) নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জিপিএস বা আইএলএস সুবিধা থাকলে কম দৃশ্যমানতার মধ্যেও এই দুর্ঘটনা ৮০ শতাংশ এড়ানো সম্ভব হতো। করুণ বিষয় হলো, অজিত পাওয়ার নিজেই এই বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার করা হয়েছে এবং এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে যে এটি যান্ত্রিক গোলযোগ নাকি সিস্টেমের ব্যর্থতা। তবে আপাতত অজিত পাওয়ারের সেই পুরনো টুইটটি এক বিষণ্ণ স্মৃতি হয়ে রয়ে গেল।

