অজিত পাওয়ারের বিমান দুর্ঘটনার ঠিক আগের মুহূর্ত; শেষ ২৬ মিনিটে কী ঘটেছিল? – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ার বুধবার সকালে বারামতিতে এক বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। অবতরণের চূড়ান্ত পর্যায়ে তাঁর জেটটি উল্টে গিয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণে প্রথমবার অবতরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। এরপর পাইলট দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টা করলে এই বিপর্যয় ঘটে। অজিত পওয়ার বারামতিতে জেলা পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে চারটি জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন।
বিমানটি সকাল ৮:১৮ মিনিটে প্রথমবার বারামতি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সকাল ৮:৩৮ মিনিটে চূড়ান্ত অবতরণের প্রক্রিয়া শুরু করে। তবে পাইলট জানান যে রানওয়ে দেখা যাচ্ছে না, ফলে বিমানটিকে পুনরায় অবতরণের জন্য পজিশন করা হয়। ATC থেকে পাইলটদের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে এবং রানওয়ে দৃশ্যমান হলে রিপোর্ট করতে বলা হয়। পাইলটরা জবাব দেন, “এই মুহূর্তে রানওয়ে দেখা যাচ্ছে না, দেখতে পেলে আমরা আপনাদের জানাব।” কয়েক সেকেন্ড পরেই তাঁরা জানান যে রানওয়ে দৃশ্যমান হয়েছে।
সকাল ৮:৪৩ মিনিটে ATC রানওয়ে ১১-এ অবতরণের অনুমতি দিলেও বিমানটি থেকে আর কোনো উত্তর আসেনি। সকাল ৮:৪৪ মিনিটে ATC আগুনের শিখা দেখতে পায় এবং দ্রুত জরুরি পরিষেবা ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার আগের সেই ২৬ মিনিটে এমন কিছু ঘটেছিল যা অজিত পওয়ার, তাঁর নিরাপত্তা আধিকারিক, দুই পাইলট এবং একজন কেবিন ক্রু সদস্যের প্রাণ কেড়ে নেয়।
দুর্ঘটনার আগের সেই ২৬ মিনিট…
বারামতি একটি অনিয়ন্ত্রিত এয়ারফিল্ড, যেখানে স্থানীয় ফ্লাইং ট্রেনিং সংস্থাগুলোর প্রশিক্ষক ও পাইলটরা ট্রাফিকের তথ্য আদান-প্রদান করেন। গত ২৮ জানুয়ারি সকাল ৮:১৮ মিনিটে বিমান ‘VT-SSK’ বারামতি ATC-র সঙ্গে যোগাযোগ করে। রানওয়ে থেকে ৩০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকাকালীন দ্বিতীয়বার কল করা হয়। সেই সময় পুণে অ্যাপ্রোচ কন্ট্রোল থেকে বিমানটির নিয়ন্ত্রণ বারামতিকে হস্তান্তর করা হয়েছিল।
পাইলটদের ভিজ্যুয়াল ফ্লাইট রুলস (VFR) অনুযায়ী নিজস্ব বিচারবুদ্ধি খাটিয়ে অবতরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ, ঠিক কখন এবং কত উচ্চতা থেকে নামতে হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছিল পাইলটদের হাতে। ক্রু সদস্যেরা বাতাস এবং দৃশ্যমানতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁদের জানানো হয় যে বাতাস শান্ত এবং দৃশ্যমানতা প্রায় ৩,০০০ মিটার। বিমানটি রানওয়ে ১১-এ নামার সংকেত দিলেও রানওয়ে দেখতে না পাওয়ায় প্রথম চেষ্টা বাতিল করা হয়। এরপর পাইলটরা দ্বিতীয়বার অবতরণের প্রস্তুতি নেন।
দ্বিতীয়বার চেষ্টা করার সময় বিমানটির অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে শুরুতে পাইলটরা রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন না বলে জানান, কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাঁরা রানওয়ে দেখতে পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেন। সকাল ৮:৪৩ মিনিটে ATC অবতরণের ক্লিয়ারেন্স দিলেও পাইলটরা প্রথা অনুযায়ী সেই নির্দেশ পুনরায় পড়ে শোনাননি (Read back), যা বিমান চালনার অন্যতম জরুরি নিয়ম। এর ঠিক এক মিনিট পরেই সকাল ৮:৪৪ মিনিটে রানওয়ে ১১-র শুরুতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষ রানওয়ের বাঁ দিকে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। বর্তমানে এয়ার অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) এই দুর্ঘটনার তদন্ত করছে।

