অজিত বিয়োগে মহারাষ্ট্রে মহানাটক: অস্তিত্ব সংকটে এনসিপি, চাপে মহাযুতি সরকার – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
মুম্বই: অজিত পাওয়ারের আকস্মিক প্রয়াণে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা তৈরি হয়েছে। বারামতীর যে মাটি থেকে তাঁর উত্থান, সেই মাটিতেই বিমান দুর্ঘটনায় ‘দাদা’র জীবনাবসান কেবল পাওয়ার পরিবারেই নয়, রাজ্যের শাসক জোট ‘মহাযুতি’র অন্দরেও প্রবল কম্পন সৃষ্টি করেছে।
এনসিপির ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয়
অজিত পাওয়ারের অবর্তমানে তাঁর নেতৃত্বাধীন এনসিপি এখন কান্ডারিহীন। দলে তাঁর সমতুল্য কোনো দ্বিতীয় নেতার অভাব স্পষ্ট। প্রফুল প্যাটেল বা সুনীল তাতকারের মতো অভিজ্ঞ নাম থাকলেও অজিতের মতো সাংগঠনিক দক্ষতা বা জনভিত্তি তাঁদের নেই। অন্যদিকে, অসুস্থ শারদ পাওয়ারের পক্ষে পুনরায় সক্রিয়ভাবে দলের হাল ধরা কঠিন। রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, অজিতের অনুগামীরা কি ফের শারদ শিবিরের দিকে ঝুঁকবেন? সুপ্রিয়া সুলে বা সুনেত্রা পাওয়ারের মধ্যে কে এই দায়ভার নেবেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
ফড়নবিশ সরকারের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ
অজিতের মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের এনডিএ (মহাযুতি) সরকারও বড়সড় অনিশ্চয়তার মুখে। ২৮৮ আসনের বিধানসভায় একক গরিষ্ঠতা নেই বিজেপির। একনাথ শিন্ডের শিবসেনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে অজিত পাওয়ারের ৪১ জন বিধায়কই ছিল বিজেপির প্রধান ভরসা। এখন এই বিধায়করা যদি দল বদলে ফের শারদ পাওয়ারের দিকে পা বাড়ান, তবে দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সরকারের স্থায়িত্ব প্রশ্নের মুখে পড়বে।
মহারাষ্ট্রের মসনদে টিকে থাকতে এখন এই ৪১ বিধায়ককে ধরে রাখাই বিজেপির সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। অজিত বিয়োগে মরাঠা রাজনীতির সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

