অন্তর্বাসের নিচে গোপন পকেট! সুপার মার্কেটে অভিনব চুরির পর্দা ফাঁস – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
চেন্নাইয়ের আন্না নগরের এক অভিজাত সুপার মার্কেটে ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর চুরির ঘটনায় রীতিমতো হতভম্ব পুলিশ প্রশাসন। ক্রেতা সেজে দোকানে ঢুকে জিনিসপত্র হাতানোর এক অদ্ভুত কৌশল অবলম্বন করেছিল একটি আন্তঃরাজ্য চোর চক্র। গত ১০ বছর ধরে তামিলনাড়ু জুড়ে সক্রিয় থাকা এই চক্রের পাঁচ সদস্যকে অবশেষে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
যেভাবে চলত অপারেশন
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই চক্রের মহিলারা এক বিশেষ ধরনের বড় ঘেরওয়ালা সায়া বা পেটিকোট ব্যবহার করতেন। সেই সায়ার ভেতরে সেলাই করা থাকত একাধিক বিশাল আকারের গোপন পকেট। সুপার মার্কেটে ঢুকে অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে চা পাতা, তেলের প্যাকেট বা ঘি-এর মতো দামি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ওই গোপন পকেটে ঢুকিয়ে ফেলতেন তারা। বাইরে থেকে বোঝার কোনো উপায় থাকত না। গত ১৯ জানুয়ারি আন্না নগরের এক সুপার মার্কেট থেকে বিপুল পরিমাণ জিনিস উধাও হওয়ার পর সিসিটিవి ফুটেজ খতিয়ে দেখে ম্যানেজার অনিল কুমার পুলিশের দ্বারস্থ হন।
অপরাধ জগতের পুরনো খিলাড়ি
পুলিশের দীর্ঘ তল্লাশির পর চেন্নাইয়ের বড়পালানি এলাকার একটি লজ থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতরা হলেন থেনি জেলার ধনলক্ষ্মী (৫০) ও নাগম্মাল (৭০), মাদুরাইয়ের মুরুগান (৫৮) ও করণ কুমার (২৫) এবং ভেলোরের মুদাসির (৪০)। পুলিশ জানিয়েছে, এরা কেবল সুপার মার্কেটে চুরিই নয়, সম্প্রতি এক ফল বিক্রেতাকে অপহরণ করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনাতেও জড়িত ছিল। ধৃতদের কাছ থেকে একটি গাড়ি, একটি ছুরি এবং সেই বিশেষ ধরনের ‘গোপন পকেট’ যুক্ত সায়া উদ্ধার করা হয়েছে।
চুরির মাল যেত পার্সেলে
জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। ধৃতরা সাধারণত চেন্নাই বা অন্য কোনো বড় শহরে এসে লজে গা ঢাকা দিতেন। কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন সুপার মার্কেটে অভিযান চালিয়ে জমা করা চুরি করা সামগ্রী ট্রাভেলস বাসের মাধ্যমে নিজেদের এলাকায় পার্সেল করে পাঠিয়ে দিতেন। সেখানে কম দামে সেই জিনিস বিক্রি করে চলত তাদের সংসার। গত এক দশক ধরে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে আসা এই গ্যাংটি জনবহুল দোকানে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অপারেশন চালাত বলে কোনো কর্মীর মনে সন্দেহ জাগত না। বর্তমানে এই পাঁচ সদস্যকে জেল হেফাজতে পাঠিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

