লেটেস্ট নিউজ

অবসর নয় বরং মাস্টারস্ট্রোক! কেন রাজীব কুমারকে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছেন মমতা? – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক আকস্মিক সিদ্ধান্তে তোলপাড় রাজনৈতিক মহল। সদ্য অবসরপ্রাপ্ত পুলিশকর্তা রাজীব কুমারকে রাজ্যসভার প্রার্থী করে সকলকে চমকে দিয়েছেন তিনি। একসময় যাঁর মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে সংশয় ছিল, সেই রাজীব কুমারই এখন তৃণমূলের সংসদীয় রাজনীতির অন্যতম তুরুপের তাস। এই নাটকীয় মোড় পরিবর্তনের নেপথ্যে উঠে আসছে চারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

১. কেন্দ্রীয় তদন্তের মুখে রক্ষাকবচ

সারদা থেকে আইপ্যাক—একাধিক মামলায় রাজীব কুমারের নাম জড়িয়েছে বারবার। সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন যে সুরক্ষা তিনি পেতেন, অবসরের পর তা হারানোর আশঙ্কা ছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যসভার সাংসদ পদ রাজীবের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি ও সংসদীয় ‘সুরক্ষাকবচ’ হিসেবে কাজ করবে, যা কেন্দ্রীয় এজেন্সির পদক্ষেপকে কঠিন করে তুলবে।

২. সরাসরি কেন্দ্রের সঙ্গে টক্কর

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছেন রাজীব। তৃণমূলের সাংসদ হিসেবে তিনি এখন সরাসরি দিল্লি তথা কেন্দ্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই লড়ার জন্য আরও বড় মঞ্চ ও শক্তি পেলেন। মমতার এই সিদ্ধান্ত রাজীবকে সেই লড়াইয়ের ময়দানে সম্মুখ সারিতে বসিয়ে দিল।

৩. জাতীয় নিরাপত্তা ও সমন্বয়

রাজীব কুমার তথ্যপ্রযুক্তি এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষ বলে পরিচিত। দিল্লির প্রশাসনিক মহলে এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্কের কথা সুবিদিত। ধারণা করা হচ্ছে, সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি জাতীয় স্বার্থে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করতে পারবেন, যা বাংলার প্রশাসনিক স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে।

৪. আমলাতন্ত্রের কাছে কড়া বার্তা

এই মনোনয়নের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের অন্যান্য আইপিএস এবং প্রশাসনিক আধিকারিকদের একটি স্পষ্ট বার্তা দিলেন। কেন্দ্রীয় চাপের মুখে নতিস্বীকার না করে যাঁরা সরকারের পাশে থাকবেন, সরকারও তাঁদের পূর্ণ নিরাপত্তা ও সম্মান দেবে—রাজীব কুমারের এই উত্তরণ সেই আস্থারই প্রতিফলন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘চমক’ কেবল একজন প্রাক্তন পুলিশকর্তাকে পুনর্বাসন দেওয়া নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির দাবাবক্সে এক সুপরিকল্পিত চাল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *