অমিত শাহের পাঠানো নেতাদের দাপটে কোণঠাসা আদি পদ্ম শিবির তুঙ্গে চরম অন্তর্কলহ – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে ‘অধিক সন্ন্যাসীতে গাজন নষ্ট’ হওয়ার উপক্রম তৈরি হয়েছে। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও রাজ্য নেতাদের মধ্যেকার বিবাদ এখন কার্যত চরমে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিশেষ দূত হিসেবে আসা দুই নেতা, সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের কর্মপদ্ধতি নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন রাজ্যের আদি নেতারা।
অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচনের রণকৌশল থেকে শুরু করে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত— সবক্ষেত্রেই একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখছেন ভিন রাজ্যের এই দুই নেতা। রাজ্য নেতৃত্বের কোনো পরামর্শ বা মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি, ঘরোয়া বৈঠকে বর্ষীয়ান ও অভিজ্ঞ বঙ্গ নেতাদের প্রকাশ্যে তিরস্কার করার মতো ঘটনাও ঘটছে। এই অপমানে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক নেতা ইতিমধ্যেই দলীয় বৈঠক এড়িয়ে চলছেন। রাজ্য কমিটির বেশ কয়েকজন পদাধিকারীকে কার্যত বসিয়ে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
রাজ্য বিজেপির একাংশের দাবি, কেন্দ্রীয় নেতারা বিলাসবহুল হোটেলে বসে এমন সব ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করছেন, যাঁদের সাথে তৃণমূল কংগ্রেসের তলে তলে যোগাযোগ রয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এক রাজ্য নেতা বলেন, “সেবার কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র ভুলের খেসারত দিতে হয়েছিল নিচুতলার কর্মীদের। এবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের এই খামখেয়ালি মনোভাব নিয়ে আমরা দিল্লির শীর্ষস্তরে অভিযোগ জানিয়েছি।”
নিচুতলার কর্মীরা যখন লড়াই করছেন, তখন দলের এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপরতলার রাজনীতি বঙ্গ বিজেপির নির্বাচনি সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে ফের সেই পুরনো ‘সেটিং তত্ত্ব’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন খোদ দলেরই নেতারা।

