অর্শ বা পাইলস কি উঁকি দিচ্ছে? এই ৪টি জিনিস করবে মূল থেকে নির্মূল! – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
পরিবর্তনশীল জীবনধারা, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার অভ্যাস এবং ভুল খাদ্যাভ্যাস অর্শ বা পাইলসের মতো সমস্যাকে সাধারণ করে তুলেছে। আগে এই রোগটি শুধুমাত্র বার্ধক্যের সাথে যুক্ত বলে মনে করা হতো, কিন্তু আজকাল তরুণদের মধ্যেও এর প্রকোপ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদি সময় থাকতে অর্শের প্রাথমিক লক্ষণগুলো বুঝে নেওয়া যায় এবং ডায়েটে সঠিক খাবার অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তবে এর প্রভাব অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব এবং ওষুধের প্রয়োজনও পড়ে না।
মলত্যাগের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া, রক্তপাত বা পায়ুপথে গুটির মতো কোনো সমস্যা অনুভব করলে সাবধান হয়ে যান—এগুলো অর্শের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। সুখবর হলো, আপনার রান্নাঘরেই লুকিয়ে আছে এর প্রাকৃতিক চিকিৎসা। চলুন জেনে নিই সেই ৪টি জিনিসের কথা, যা অর্শের কষ্ট মূল থেকে দূর করতে সাহায্য করতে পারে:
১. ইসবগুল
অর্শের সবচেয়ে বড় কারণ হলো কোষ্ঠকাঠিন্য। ইসবগুল ফাইবারে ভরপুর, যা মলকে নরম করে এবং অন্ত্র পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন রাতে এক চামচ ইসবগুলের ভুষি হালকা গরম জল বা দইয়ের সাথে খেলে মলত্যাগ সহজ হয় এবং পায়ুপথে চাপ কম পড়ে।
২. ডুমুর (অঞ্জির)
শুকনো ডুমুর বা আঞ্জির ফাইবারের একটি চমৎকার উৎস। এটি কেবল পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালীই করে না, বরং অর্শের কারণে হওয়া জ্বালাপোড়া এবং ফোলাভাবও কমায়। রাতে দুই-তিনটি শুকনো ডুমুর জলে ভিজিয়ে রাখুন এবং সকালে খালি পেটে খান। এটি একটি আয়ুর্বেদিক উপায় যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
৩. ঘোল (বাটারমিল্ক)
অর্শের সমস্যায় ঘোলকে অমৃতের সমান মনে করা হয়। এতে থাকা প্রোবায়োটিক হজমশক্তি উন্নত করে এবং অন্ত্রের অস্বস্তি শান্ত করে। ঘোলের সাথে জোয়ান এবং বিট নুন মিশিয়ে দিনে এক-দুবার খেলে অনেক আরাম পাওয়া যায়।
৪. তিসির বীজ (ফ্ল্যাক্স সিড)
তিসির বীজ কেবল কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি দেয় না, এটি শরীরের প্রদাহ এবং ব্যথাও কমায়। এই বীজগুলো ভেজে নিয়ে গুঁড়ো করে নিন এবং প্রতিদিন সকালে এক চামচ হালকা গরম জলের সাথে খান। এতে পেট পরিষ্কার থাকে এবং অর্শের তীব্রতা হ্রাস পায়।

