অষ্টম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন ৫২ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ

অষ্টম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন ৫২ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য নির্ধারণ

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা সংশোধনী বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড়সড় অগ্রগতির খবর দিল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে মোট ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের আবেদনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৫২ লক্ষের নিষ্পত্তি করা হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। মূলত সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে গত ২৩ মার্চ থেকে ধাপে ধাপে এই অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের কাজ শুরু হয়েছে। সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর থেকে এই সংক্রান্ত অষ্টম অতিরিক্ত তালিকাটি প্রকাশ করা হয়।

কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সদ্য প্রকাশিত এই অষ্টম তালিকায় প্রায় ৩ লক্ষ ভোটারের নাম ও তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে এখনও প্রায় ৮ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাইয়ের কাজ বাকি রয়ে গিয়েছে। কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন অর্থাৎ ৬ এপ্রিলের মধ্যেই বাকি সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকায় বিবেচনাধীন ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন, যার নিষ্পত্তির দায়িত্বে রয়েছেন ৭০৫ জন বিচারক।

বিবেচনাধীন ভোটারদের এই বিপুল তথ্য যাচাইয়ের কাজ নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। অভিযোগ উঠেছে যে, অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে যোগ্য ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে মালদহ-সহ বিভিন্ন জেলায় বিক্ষোভ এবং বিচারকদের ঘেরাও করার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে, যা নিয়ে খোদ সুপ্রিম কোর্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। গড়ে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় নিয়ে তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণের পর এই তালিকাগুলি জনসমক্ষে আনা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

এদিকে রাজ্যে অবাধ, স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী রাজ্যের শীর্ষ আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন। মুখ্যসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রেখে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা হয়। জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারদেরও একই নির্দেশিকা পালনের কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *