আওয়ামী লীগের দফতর খুলছে তারেক রহমানের সরকার, ক্ষোভে ফুঁসছে জামায়াত শিবির – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর এক নজিরবিহীন রাজনৈতিক অস্থিরতা দানা বাঁধছে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার একাধিক বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সবচেয়ে বড় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলো পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘটনায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে বিএনপির সংঘাত এখন চরম আকার ধারণ করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক কড়া বিবৃতিতে বর্তমান সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো এবং গণহত্যার সঙ্গে জড়িত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের রহস্যজনকভাবে জামিন দেওয়া হচ্ছে। শুধু তাই নয়, সরকারি পর্যায় থেকে সবুজ সংকেত পেয়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আওয়ামী লীগের তালাবন্ধ অফিসগুলো আবার সচল হচ্ছে। জামায়াত নেতাদের আশঙ্কা, এই কার্যালয়গুলো ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ পুনরায় দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলে শোরগোল আরও বাড়িয়েছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি নির্বাচনের ফলাফল নিয়েই প্রশ্ন তুলে বিএনপির অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, সাধারণ মানুষের বিশ্বাস জামায়াত নির্বাচনে হারেনি বরং তাদের পরিকল্পিতভাবে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই মন্তব্য তারেক প্রশাসনের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্কের ফাটলকে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামী লীগের দফতরগুলোতে নেতা-কর্মীদের আনাগোনা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, প্রশাসনের শিথিলতার সুযোগ নিয়ে তারা আবারও সংঘবদ্ধ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জামায়াত-শিবিরের নিচুতলার কর্মীরা আওয়ামী লীগের দিক থেকে প্রাণঘাতী হামলার আশঙ্কা করছেন। মিত্র দলের এমন অবস্থানে বিএনপির ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে, যা বাংলাদেশের আগামী দিনের স্থিতিশীলতাকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।

