লেটেস্ট নিউজ

আকাশছোঁয়া সোনার দাম, ৪ লক্ষ ছাড়াবে রুপো! বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় খবর – এবেলা

এবেলা ডেস্কঃ

বিনিয়োগের বাজারে এখন সবথেকে আলোচিত বিষয় সোনা ও রুপোর অবিশ্বাস্য মূল্যবৃদ্ধি। সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলেও, বিশেষজ্ঞদের দাবি— এই তো কেবল শুরু! সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে এই মূল্যবান ধাতু দুটির দাম যে উচ্চতায় পৌঁছাবে, তা বর্তমানের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দেবে।

রেকর্ড ভাঙছে সোনার দাম

বর্তমানে ঘরোয়া বাজারে (MCX) প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ১,৫৩,১১৬ টাকার আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের শেষের দিকে এই দাম অনায়াসেই ১,৭৫,০০০ টাকা থেকে ১,৯৫,০০০ টাকার ঘর স্পর্শ করতে পারে। এমনকি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটলে এই বছরের শেষেই ১০ গ্রাম সোনার দাম ২ লক্ষ টাকায় পৌঁছে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ব বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৬,১০০ থেকে ৬,৭০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে মনে করছে ‘গ্লোবালডেটা’।

রুপোর দাপট: ৪ লক্ষের লক্ষ্যমাত্রা

সোনার চেয়েও রুপোর দাম বাড়ার গতি আরও বেশি চমকপ্রদ হতে পারে। বর্তমানে প্রতি কেজি রুপো ৩,১৬,৫০১ টাকায় লেনদেন হলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন খুব শীঘ্রই এটি ৪ লক্ষ টাকার গণ্ডি টপকে যাবে। দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাস অনুযায়ী, রুপোর দাম প্রতি কেজি ৩,৮০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৪,৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমান স্তর থেকে রুপোর দাম প্রায় ৮৭% থেকে ১৩৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে।

কেন এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি?

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই আকাশচুম্বী দামের পিছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:

  • ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা: গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের মধ্যে ক্রমবর্ধমান স্নায়ুযুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনা ও রুপোর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
  • সীমিত সরবরাহ ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা: শিল্পক্ষেত্রে রুপোর ব্যবহার বৃদ্ধি পেলেও সেই তুলনায় জোগান কম থাকায় দাম হু হু করে বাড়ছে।
  • নীতিগত অনিশ্চয়তা: বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থা এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলি সোনা মজুত করার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

যদিও গত কয়েক দিনে রুপোর দামে কিছুটা সংশোধন দেখা গেছে (প্রায় ১৬,০০০ টাকা হ্রাস), তবুও বিশেষজ্ঞরা একে সাময়িক বলে মনে করছেন। অতীতেও দেখা গেছে, বড় কোনো লাফ দেওয়ার আগে রুপোর দাম কিছুটা কমে থিতু হয়। ফলে এই মূল্যবৃদ্ধির ধারা অদূর ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *