আকাশে ড্রোন উড়তেই হুলুস্থুল, কাটোয়ায় হাতেনাতে ধরা পড়ল বিদ্যুৎ চোর – এবেলা
এবেলা ডেস্কঃ
কাটোয়া
২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বোরো চাষের মৌসুমে জল সেচের জন্য রমরমিয়ে চলছিল বিদ্যুৎ চুরি। সরকারি নজরদারি এড়াতে অভিনব সব কৌশল নিয়েছিলেন চাষিদের একাংশ। কিন্তু এবার আর শেষরক্ষা হলো না। হুকিং রুখতে রণকৌশল বদলে সরাসরি আকাশপথে হানা দিল রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা। কাটোয়ার আকাশে ড্রোন উড়তেই চুরির পর্দাফাঁস হয়ে গেল মুহূর্তের মধ্যে। একদিকে ড্রোনের ক্যামেরায় ধরা পড়ল হুকিংয়ের দৃশ্য, অন্যদিকে ডর আর আতঙ্কে তড়িঘড়ি তার খোলার মরিয়া চেষ্টা চালাতে দেখা গেল অভিযুক্তদের। পুরো ভিডিও এখন বিদ্যুৎ দপ্তরের হাতে, যার ভিত্তিতে শুরু হয়েছে আইনি প্রক্রিয়া।
জানা গিয়েছে, কাটোয়া-২ ব্লকের নতুনগ্রাম, পলসোনা, কুয়ারা, শ্রীবাটি ও আউরিয়া এলাকায় প্রথম দফার এই ডিজিটাল অভিযান চালানো হয়। কুয়ারা গ্রামে প্রশান্ত ঘোষ নামে এক সাবমার্সিবল মালিকের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। ড্রোনের লেন্সে ধরা পড়েছে চাঞ্চল্যকর দৃশ্য। দেখা যাচ্ছে, আকাশে যন্ত্রমানদ দেখা মাত্রই তড়িঘড়ি ট্রান্সফরমারের জাম্পার নামিয়ে দিচ্ছেন ওই ব্যক্তি। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে বিদ্যুতের খুঁটিতে উঠে হুকিংয়ের তার খোলার চেষ্টা করছেন তিনি। কিন্তু ড্রোন ক্যামেরা ততক্ষণে চুরির অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করে ফেলেছে। এই প্রযুক্তির সহায়তায় একদিনেই তিনটি বড় মামলা দায়ের করেছে কাটোয়া ডিভিশন বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা।
বিভাগীয় ইঞ্জিনিয়ার (কাটোয়া) রাহুল আগরওয়ালা এই অভিযান প্রসঙ্গে জানান, বিদ্যুৎ চুরি রুখতে তারা এবার ড্রোন প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন। তিনি বলেন, ড্রোন নজরে আসতেই হুকিং খুলে ফেলার দৃশ্য আমাদের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এই ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। আগামী দিনেও এমন অতর্কিত হানা জারি থাকবে।
দপ্তর সূত্রে খবর, আগে সশরীরে অভিযানে গেলে খবর পৌঁছে যেত এলাকায়। আধিকারিকরা পৌঁছানোর আগেই হুকিং সরিয়ে ফেলত অভিযুক্তরা। ফলে হাতেনাতে প্রমাণ মেলা কঠিন হয়ে পড়ত। এবার সেই বাধা দূর করতে দক্ষ একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছে বিদ্যুৎ ভবন। রাস্তা থেকেই ড্রোন উড়িয়ে পুরো মৌজার ওপর নজরদারি চালানো হচ্ছে। এতে ভিডিওসহ চুরির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলছে, যা আদালতে অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করতে সাহায্য করবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কাটোয়া মহকুমার পাঁচটি ব্লকে প্রায় ৭ হাজার বৈধ সাবমার্সিবল সংযোগ রয়েছে, যা থেকে বছরে প্রায় ২৫ কোটি টাকা রাজস্ব আসে। গত বছরও বিদ্যুৎ চুরির দায়ে কেতুগ্রাম, মঙ্গলকোট ও কাটোয়া থানা এলাকায় ১৫০টি মামলা হয়েছিল এবং প্রায় আড়াই কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছিল। চলতি বছরের শুরুতেই সেই সংখ্যা ৩৫ ছাড়িয়েছে। রাজ্যজুড়ে বিদ্যুৎ চুরির কারণে হওয়া বিপুল লোকসান রুখতে ড্রোনের এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ এখন বণ্টন সংস্থার সবথেকে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

